নবীজির (সা.) খাদ্যতালিকা কেমন ছিল?

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নবীজির (সা.) খাদ্যতালিকা কেমন ছিল?

খোলা কাগজ ডেস্ক ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

print
নবীজির (সা.) খাদ্যতালিকা কেমন ছিল?

প্রশ্নটি করেছেন আফতাবুর রহমান, মুলাদী, বরিশাল থেকে

খাওয়ার সময় রাসুল (সা.) কখনোই মুখ ভরে খাবার নিয়ে তা গিলে ফেলতেন না এবং খাবার চিবানোর সময়ও তিনি কোনো প্রকার শব্দ করতেন না। রাসুল (সা.) যখন খেতেন, তখন পরিমিত ও ভালোভাবে চিবিয়ে খেতেন। রাসুল (সা.) থেকেই আমরা শিক্ষা পাই, পাকস্থলীকে তিন ভাগ করে এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানীয় দিয়ে পূর্ণ করে শেষ এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখতে হবে।

তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, অসুস্থতার অন্যতম কারণ নির্ধারিত পরিমাণের অধিক খাওয়া বা ভুল উপায়ে খাওয়া। রাসুল (সা.) প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবারই বেশি গ্রহণ করতেন। গাছ থেকে পাড়া খেজুর তিনি খেতেন এবং উটনী বা ছাগীর সদ্য দোহন করা দুধ পান করতেন। তিনি ছিলেন এমন এক মানুষ যিনি সবসময় আল্লাহর নেয়ামতকে উপভোগ করতেন।

তার পছন্দের একটি খাবার ছিল সারিদ। এটি ছিল তৎকালীন আরবের বিশেষ এক প্রকার খাবার, যাতে গোশত বা সবজির ঝোলে রুটি ছোট ছোট করে ডুবিয়ে রাখা হতো। এছাড়া তরকারিতে অধিক পরিমাণে ঝোল দেওয়ার জন্য তিনি উপদেশ দিতেন, যেন একসঙ্গে অনেকেই খাবার খেতে পারে এবং প্রতিবেশীদেরও সেখান থেকে দেওয়া যায়।

খাবার সময় রাসুল (সা.) কখনোই একা খেতে বসতেন না। অনেক লোককে নিয়ে একত্রে খেতেন। এমন কোনো হাদিস পাওয়া যায় না, যেখানে জানা যায় তিনি একা একা খাবার খেয়েছেন। কোনো প্রকার চামচ-ছুরির ব্যবহার ছাড়া তিনি হাত দিয়েই খাবার খেতেন। খাবার ফুঁ দিয়ে ঠাণ্ডা করতে রাসুল (সা.) নিষেধ করেছেন। আবার খাবার কিছুটা ঠাণ্ডা হওয়ার আগেই লোভীর মতো হাত চালাতে নিষেধ করেছেন।

রাসুলের (সা.) শিক্ষানুযায়ী যে ব্যক্তি খাবার পরিবেশন করবে, সে সকলের শেষে খাবার গ্রহণ করবে। কেননা এতে করে সে সকলের খাবার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে।

রাসুলের (সা.) রোজা পালন
রমজানের এক মাস এবং জিলহজ ও মহররম মাসের বিশেষ দিনগুলো ছাড়াও প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাসুল (সা.) রোজা রাখতেন। এছাড়া হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন। রাসুলের (সা.) খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চিন্তা করতে চাইলে আমরা দুটি আয়াতকে সামনে রাখতে পারি-
১. সুরা আল-আরাফে বলা হয়েছে, খাও ও পান করো এবং অপব্যয় করো না। (সুরা আল-আরাফ, আয়াত-৩১)।

২. সুরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে, প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত-৩০)।

অর্থাৎ, আমাদের সকলের সত্তা যেহেতু পানি থেকে উৎপন্ন, সুতরাং জীবনের প্রয়োজনেই উচিত বেশি বেশি পানি পান করা।