বাসর রাতে নামাজ পড়ার বিধান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বাসর রাতে নামাজ পড়ার বিধান

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

print
বাসর রাতে নামাজ পড়ার বিধান

জাবের বিন আব্রাহামের প্রশ্নটির জবাব দিয়েছেন মুফতি জিয়াউর রহমান, ইসলামিক ফিকহ ইনস্টিটিউট, সিলেট

প্রশ্ন : বাসর রাতে স্ত্রীর আঁচলে স্বামী নামাজ পড়বেন। এটা কতটা যুক্তিযুক্ত ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে? উত্তর : এ সম্পর্কিত কোনো আমল সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়। স্ত্রীর শাড়ির আঁচলে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার বিশেষ কোনো পদ্ধতি তো নয়ই। বরং এটাকে সুন্নাহ মনে করে করলে বিদআত হয়ে যাবে, যেহেতু এই পদ্ধতির কথা সালাফ থেকে কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে সাহাবায়ে কেরাম থেকে এই রাতে বিশেষ পদ্ধতি ছাড়া শুধু দুই রাকাত নামাজ এবং কল্যাণ ও বারাকাতের দোয়া প্রমাণিত আছে।

আবু উসাইদের আজাদকৃত গোলাম আবু সাঈদ বলেন, আমি গোলাম থাকা অবস্থায় বিয়ে করলাম এবং নবী করিম (সা.)-এর কয়েকজন সাহাবিকে দাওয়াত করলাম।

তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ, আবুজর এবং হুজাইফা (রা.)ও ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাদের বললাম, আমাকে (আজকের করণীয় সম্পর্কে) শিক্ষা দিন।

তারা বললেন, যখন তোমার ঘরে তোমার স্ত্রীকে প্রবেশ করানো হবে তখন তুমি দু-রাকাআত সালাত আদায় করো এবং তোমার ঘরে যে এসেছে আল্লাহর নিকট তার কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারপর তুমি এবং তোমার স্ত্রীর যা করণীয় করো। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৩/৪০১ এবং মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৬/১৯১)।

শাকিক (রহ.) থেকে বর্ণিত, এক লোক আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদের কাছে এলেন। তিনি বললেন, আমি এক যুবতী মেয়ে বিয়ে করেছি। কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সে আমাকে অপছন্দ করবে (বা আমার প্রতি রাগ-গোস্বা করবে)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ বললেন, ভালোবাসা ও সুসম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় আর ঘৃণা বা রাগ-গোস্বা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কারণ সে আল্লাহর হালাল করা বিষয়ে তোমাদের মাঝে ঘৃণা সৃষ্টি করতে চায়। সুতরাং তোমার স্ত্রী তোমার কাছে আসলে তাকে আদেশ করবে, সে যেন তোমার পেছনে দু রাকাত সালাত আদায় করে।

(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা-৩/৪০২ এবং মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক-৬/১৯১, আদাবুজ জিফাফ পৃষ্ঠা ২৪)।