দারিদ্র্য ও অশান্তির পেছনে কী দায়ী?

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

দারিদ্র্য ও অশান্তির পেছনে কী দায়ী?

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

print
দারিদ্র্য ও অশান্তির পেছনে কী দায়ী?

প্রশ্নটি করেছেন মুনতাসীর রহমান, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা থেকে।

জীবনে প্রশান্তি এবং জীবিকায় সচ্ছলতা একটি সুন্দর জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ইমান এবং তাকওয়া। কেউ যখন ইমানকে শিথিল করে এবং তাকওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে গাফেল ও অবাধ্য হয়ে পড়ে, তখন তার জীবিকায় নেমে আসে সংকীর্ণতা আর জীবনে আসে নানা অশান্তি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর যদি জনপদগুলোর অধিবাসীরা ইমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও জমিন থেকে বরকতগুলো তাদের ওপর খুলে দিতাম; কিন্তু তারা অস্বীকার করল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত, তার কারণে আমি তাদের পাকড়াও করলাম’ (সূরা আরাফ-৯৬)।

প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে যারা আল্লাহর ওপর ইমান আনেনি তাদের এত সম্পদ কোথা থেকে এলো?

সঠিক হলো, রিজিকে বরকত আসার উদ্দেশ্য শুধু বিপুল ধন-ঐশ্বর্য ও টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া নয়; বরং সঠিক হচ্ছে, রিজিক একটি ব্যাপক পরিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সুস্বাস্থ্য, বুদ্ধিমত্তা, সময় ও জীবনের বরকত, সন্তান-সন্ততি ও তাদের সুস্থতা এবং সার্বিক কল্যাণ-উন্নতি। আর এ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণই কেবল আল্লাহর হাতে।

কেউ আল্লাহর পথে ব্যয় করেছে, তার প্রতিদান সে দুনিয়াতে যেমন পাবে, আখেরাতেও পাবে। কিন্তু যারা আল্লাহর ওপর ইমান রাখে না, তারা হয়তো ভালো কাজের প্রতিদান দুনিয়াতেই পেয়ে যাবে, আখেরাতে তারা হবে নিঃস্ব।

পৃথিবীর সমস্ত ধন-সম্পদ একত্র করলেও আখেরাতের সামান্য পরিমাণ সওয়াবের সমান হবে না। ফলে একজন ইমানদার বাহ্যিকভাবে যতই দরিদ্র হোক, প্রকৃতপক্ষে সে দরিদ্র নয়। তার আমলনামায় প্রতিদিন জমা হচ্ছে অনেক অনেক সওয়াব। এর বিপরীতে যারা ইমান আনেনি, তারা যা কিছু অর্জন করছে তা কিছুই নয়। গুনাহ ইমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে এটিও রিজিকের বরকত কমে যাওয়া ও জীবনে অশান্তি আসার অন্যতম কারণ। কখনো কখনো মুমিন বান্দার দুনিয়াতেই এর শাস্তি ভোগ করতে হয়। যার ফলে তার ওপর বড় বিপদাপদ, অভাব-অনটন, অসুস্থতা ইত্যাদি চেপে বসতে পারে। প্রিয় নবী (সা.)-এর হাদিস থেকে এ ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সৎকর্ম ছাড়া অন্য কিছু আয়ুষ্কাল বাড়াতে পারে না এবং দোয়া ছাড়া অন্য কিছু তকদির ফেরাতে পারে না। মানুষ তার পাপকাজের দরুন প্রাপ্য রিজিক থেকে বঞ্চিত হয় (ইবনে মাজাহ)।