ঘুমানোর আগে কী দোয়া পড়ব?

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬

ঘুমানোর আগে কী দোয়া পড়ব?

খোলা কাগজ ডেস্ক ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯

print
ঘুমানোর আগে কী দোয়া পড়ব?

প্রশ্নটি করেছেন আবদুল খালেক, বদলগাছী, নওগাঁ থেকে

ঘুম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিশাল ইহসান। এর মাধ্যমে বান্দা আগের দিনের সমস্ত ক্লান্তি মুছে নতুন দিনের জন্য কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। ঘুম হয়ে উঠবে ইবাদত, যদি তার আগে ও পরে থাকে নেক আমল। সাহাবি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলতেন- আর আমি (রাতে) ঘুমাই এবং নামাজে দাঁড়াই, আমি আমার ঘুমকেও ইবাদত গণ্য করি, যেভাবে ইবাদত গণ্য করি জাগ্রত থেকে নামাজ আদায়কে (বুখারি-৩৯৯৮)।

নিম্নে হাদিস থেকে সংগৃহীত ঘুমানোর আগে কিছু দোয়া পেশ করা হলো। যেগুলো পাঠে তা হবে আমাদের জন্য রাতের নিরাপত্তা, এবং সেই সঙ্গে ঘুমের অন্যান্য আদব ও সুন্নতগুলো পালনে আমাদের ঘুম হয়ে উঠবে ইবাদত।

এক. আয়াতুল কুরসি পড়া। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে রমজানের ফিতরা সংরক্ষণের দায়িত্ব দিলেন। কোনো এক আগন্তুক আমার কাছে এলো এবং অঞ্জলি ভরে খাবার (চুরি) সংগ্রহ করতে লাগল। ... এরপর পূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে আছে- আগন্তুক তাকে বলল, তুমি যখন তোমার বিছানায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসি পড়বে, কেননা এর মাধ্যমে সর্বক্ষণ তোমার সঙ্গে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

রসুল (সা.) বললেন, তোমাকে সত্য বলেছে যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী। সে হচ্ছে শয়তান (বুখারি-৩০৩৩)।

দুই. সূরা এখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়া। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন- নবী (সা.) যখন প্রতি রাতে নিজ বিছানায় যেতেন দুই হাতের কবজি পর্যন্ত একত্রিত করতেন অতঃপর তাতে ফুঁ দিতেন এবং সূরা এখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তেন। অতঃপর দুই হাত যথা সম্ভব সমস্ত শরীরে মলে দিতেন। মাথা, চেহারা এবং শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এরূপ পরপর তিনবার করতেন (তিরমিজি-৩৩২৪)।

ঘুমের দোয়াটি পড়া- আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া। অর্থ : হে আল্লাহ, আপনার নামে মৃত্যুবরণ করলাম এবং আপনার নামেই জীবিত হব।

এ দোয়া পড়া- হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিয়েছি। আমার বিষয় আপনার কাছে সোপর্দ করেছি। আমার পিঠ আপনার সাহায্যে দিয়েছি আপনার প্রতি আশা এবং ভয় নিয়ে, আশ্রয় নেওয়ার ও আপনার শাস্তি থেকে বাঁচার মতো জায়গা আপনি ছাড়া আর কেউ নেই। আমি ইমান এনেছি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি এবং আপনার প্রেরিত নবীর প্রতি (বুখারি-৫৮৩৬)।