সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

খোলা কাগজ ডেস্ক ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৩, ২০১৯

print
সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

প্রশ্নটি করেছেন অনিন্দিতা লাবণ্য, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ থেকে

কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল। ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম নর-নারী ঋণমুক্ত থাকা অবস্থায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে তার কোরবানি করা ওয়াজিব। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩১২)। সোনা-রুপার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এখন নিসাবের পরিমাণ মোটামুটি চল্লিশ হাজার টাকা। অতএব, উপরের শর্তগুলো পাওয়া যাওয়ার ভিত্তিতে কেউ যদি ঈদুল আজহার তিনদিন তথা ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকার মালিক হন তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। এক্ষেত্রে অনাদায়ে তিনি ওয়াজিব তরকের দায়ে গুনাহগার হবেন।

নাবালেগ, পাগল নেসাবের মালিক হলেও তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। তবে তাদের অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে থেকে কোরবানি করলে তা সহীহ হবে। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/১৯৬)।

মুসাফিরের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। মুসাফির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে। (আদ্দুররুল মুখতার, ৬/৩১৫)।
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কোরবানির তিন দিনই মুকিম থাকা জরুরি নয়। বরং কেউ যদি এ ৩ দিনের শুরুতে মুসাফির থাকে এবং শেষের দিকে মুকিম হয়ে যায় তবে নেসাবের মালিক হলে তার উপরে কোরবানি ওয়াজিব হবে। তবে কেউ যদি এ ৩ দিনের শুরুতে মুকিম থাকে এবং শেষের দিকে মুসাফির হয়ে যায় তাহলে তার উপরে কোরবানি ওয়াজিব হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/১৯৫)।

কোরবানি শুধু নিজের পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয়। মাতা পিতা সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে করলে তা নফল হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩১৬)।
গরিব ব্যক্তির উপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়। তবে সে কোরবানির নিয়তে কোনো পশু ক্রয় করলে সেই পশু কোরবানি করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/১৯২)।

যে সব হাজি মক্কা, মিনা ও মুজদালিফা মিলে কোরবানির সময় ১৫ দিন থাকবে তারা মুকিম। নেসাবের মালিক হলে হজের কোরবানি ব্যতীত তাদের ওপর ঈদুল আজহার কোরবানিও ওয়াজিব। যারা মুসাফির থাকবেন তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/২৯৩)।