সদকাতুল ফিতরা কী ও কেন?

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

সদকাতুল ফিতরা কী ও কেন?

মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ১:০১ অপরাহ্ণ, জুন ০২, ২০১৯

print
সদকাতুল ফিতরা কী ও কেন?

ইসলামী অর্থনীতিতে দারিদ্র্য বিমোচনে চূড়ান্ত ব্যবস্থা হলো জাকাত। আর ঈদকেন্দ্রিক গরিবের সাময়িক খাবার ও নিত্যপ্রয়োজন পূরণের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে ফিতরার। ফিতরার মাধ্যমে গরিব মানুষের সাময়িকভাবে অভাব পূরণের ব্যবস্থা হবে আবার ধনীরা তাদের রোজায় অনাকাক্সিক্ষতভাবে ঘটে যাওয়া ভুলত্রুটি ক্ষমা পাবেন।

ফিতরা আরবি শব্দ, যা জাকাতুল ফিতর বা সদকাতুল ফিতর নামেও পরিচিত। জাকাতুল ফিতর বলা হয় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরিব দুস্থদের মাঝে রোজাদারদের বিতরণ করা দানকে। নারী-পুরুষ, স্বাধীন-পরাধীন, শিশু-বৃদ্ধ, ছোট-বড় সব মুসলিমের জন্য ফিতরা প্রদান করা ওয়াজিব।

রাসুল (সা.) সবাইকে ঈদের নামাজে বের হওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করার আদেশ দিয়েছেন।

নামাজে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ভুল হলে সাহু সিজদা দিয়ে যেমন তা শুধরে নেওয়া যায় তেমনি রোজায়ও অনাকাক্সিক্ষত কোনো ভুল হলে সদকাতুল ফিতরের মাধ্যমে তা শোধরানো যায়। আল্লাহ এই সদকার মাধ্যমে রোজার ভুল মাফ করে দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায়কারীকে রোজার পূর্ণ সওয়াব দিয়ে দেন।

সদকাতুল ফিতরের দুটি উদ্দেশ্য রোজাদারের রোজাকে পবিত্র করা, মিসকিন ও অভাবীদের ঈদ আনন্দের দিনে হাত পাতা থেকে বিরত রাখা। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রহ.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অশ্লীল ও অনর্থক কথাবার্তার কারণে সিয়ামে ঘটে যাওয়া ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো দূর ও মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য রাসুলে কারিম (সা.) সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। (আবু দাউদ : ২/১১১)।

সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হলো নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া। জাকাতের জন্যও নিসাব পরিমাণ মাল থাকতে হয় আবার সদকাতুল ফিতরের জন্য নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হতে হয়। তবে জাকাতের জন্য বছরপূর্তি অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের এক বছর পূর্তি হওয়ার শর্ত কিন্তু সদকাতুল ফিতরের জন্য নয়।

ঈদুল ফিতরের দিন ভোরবেলায় যার কাছে নিসাব পরিমাণ মাল থাকবে তার ওপরই সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। এমনকি ওই ব্যক্তি যদি এর আগের দিন কিংবা পরদিনও সম্পদহীন থাকে কিন্তু ঘটনাক্রমে ঈদুল ফিতরের দিন ভোরবেলায় তার পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ মাল থাকে তাহলেই তার এবং তার অধীনস্থদের সবার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।

নিসাব হলো নিত্যপ্রয়োজন ও ঋণের অতিরিক্ত কারও কাছে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ নগদ অর্থ থাকা।