বিজোড় রাতের ইবাদত

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

বিজোড় রাতের ইবাদত

মাওলানা হামজা ২:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০১৯

print
বিজোড় রাতের ইবাদত

চলছে মাহে রমজানের শেষ দশক। এটি ইবাদতদার মুমিনের জন্য অন্যতম এক সুযোগ। তার কারণ রমজানের মাসের এই শেষের ১০ দিনে আছে বিজোড় রাতের ইবাদত। আর বিজোড় রাতের ইবাদত আল্লাহতায়ালার কাছে অধিক পছন্দনীয়। প্রিয় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে এমনটিই ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা বিজোড়; তিনি বিজোড়কে পছন্দ করেন’ (মুসলিম)। কেননা এই সময়ে রয়েছে লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সুরা কদর আয়াত ২-৩) এই রাতের ফজিলত সম্বন্ধে হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল নামাজ আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে, আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সব সগিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি, হাদিস নং : ১৯০১; মুসলিম : ৭৬০)।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শবে কদর কবে? সেটা কি সাতাশ রোজায়? নিজেই দেখুন সে সম্পর্কে হাদিসে কি এসেছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমাজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ (বুখারি, হাদিস নং : ২০২০; মুসলিম, হাদিস নং : ১১৬৯) অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’ (বুখারি, হাদিস নং : ২০১৭)। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে, বিজোড় রাতের গুরুত্ব।

কিন্তু আমরা শুধু সাতাশ রমজান রাত্রিকে শবে কদর ভেবে বসে আছি। এই রাত ছাড়া বাকি রাতগুলোতে ইবাদতের ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট শিথিলতা লক্ষ করা যায়। অথচ হাদিসে স্পষ্ট বলা হচ্ছে, শেষ ১০ দিন। তবে হাদিস এবং ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোর যে কোনো এক দিন শবে কদর হওয়ার বেশি সম্ভাবনা। সুতরাং পুরো ১০ দিন না পরি, অন্তত বিজোড় ১০ দিন রাত আমরা যেন ইবাদতে কাটিয়ে দিতে পারি।

এরপরও সারা রাত ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না যাদের। তাকে সজাগ থাকতে হবে কোনোভাবে যেন আমাদের লাইলাতুল কদর মিস না হয়। সে জন্য ফজর ও ইশার নামাজ জামাতে আদায় করতে হবে। হজরত ওসমান (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতে পড়েছে, সে যেন অর্ধরাত পর্যন্ত নামাজ পড়েছে। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে পড়েছে, সে যেন সম্পূর্ণ রাত নামাজ পড়েছে।’ (মেশকাত, পৃষ্ঠা নং : ৬২)

অন্যদিকে তারাবির ফজিলত সম্বন্ধে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান অবস্থায় সাওয়াবের আশায় রাতে তারাবি ও তাহাজ্জুদ আদায় করবে, আল্লাহ তার পূর্ববতী (সগিরা) গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন। (বুখারি, হাদিস নং : ৩৭; মুসলিম, হাদিস নং : ৭৫৯)।

এ ছাড়াও আল্লাহতায়ালা বিজোড়কে পছন্দ করে বিধায় তিনি তার বড় বড় মাখলুক সৃষ্টিতেও বিজোড় করেছেন। যেমন আসমান ৭টি, জমিন ৭টি, সমুদ্র ৭টি, দিন ৭টি। আল্লাহতায়ালা এসব সৃষ্টির হেকমতই বলে দেয়, আল্লাহতায়ালা বিজোড়কে পছন্দ করেন। আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে বেশি বেশি বিজোড় ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।