আদর্শ ব্যবসায়ী হওয়ার প্রশিক্ষণ

ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬

আদর্শ ব্যবসায়ী হওয়ার প্রশিক্ষণ

যুবায়ের আহমাদ ১:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০১৯

print
আদর্শ ব্যবসায়ী হওয়ার প্রশিক্ষণ

ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় শুধু বৈষয়িক মুনাফা লাভের সুযোগই নয় বরং এক মহান ইবাদত। কিন্তু ব্যবসা ইবাদতে পরিণত হওয়ার মূল শর্ত হলো সততা। তা না থাকলে তা ইবাদত তো হবেই না, থাকবে না ব্যবসা গণ্ডির মধ্যেও; পরিণত হবে প্রতারণায়। একজন ব্যবসায়ী রমজানে ব্যবসায় ভেজাল না দিয়ে, ব্যবসার ক্ষেত্রে মিথ্যা না বলে, ওজনে কম না দিয়ে এবং নিত্যপণ্যের দাম অবৈধভাবে না বাড়িয়ে আদর্শ বা সৎ ব্যবসায়ী হয়ে ব্যবসাকে ইবাদতে রূপান্তরের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন রমজানে।

সৌদি আরব, কাতারসহ আরব দেশগুলো তো আছেই এমনকি আমেরিকাতেও বিজ্ঞাপন দিয়ে রমজান এলে নিত্যপণ্যের মূল্যে ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে হয় এর বিপরীত। সংযমের মাস রমজানে লাগামহীন হয়ে পড়ে নিত্যপণ্যের বাজার। বেশি ‘লাভ’ করার আশায় মজুদদারির মাধ্যমে যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করবে সে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো কিংবা ব্যবসায় অসততার পথ অবলম্বন করলে শুধু পরলৌকিক জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়, বরং দুনিয়ার জীবনেও সে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, মজুদদারির মাধ্যমে কোটিপতি হলেও তার ওপর গজব ও দারিদ্র্য অবধারিত হবে।

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম উপায়ে সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেবেন (ইবনে মাজাহ)। পক্ষান্তরে যারা মজুদদারি না করে স্বাভাবিকভাবে মুনাফা অর্জন করতে চান আল্লাহ তাদের ব্যবসায় বরকতের দরজা খুলে দেন। তাকে অপ্রত্যাশিত রিজিক প্রদান করেন।

হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অবাধ ব্যবসায়ী রিজিক প্রাপ্ত হয় আর পণ্য মজুদকারী অভিশপ্ত হয় (ইবনে মাজাহ)।

ব্যবসায় অসততার পথ অবলম্বন করলে উপার্জন হারাম হওয়ায় নামাজ, রোজা এবং দান-সদকা যেমন কবুল হয় না, তেমনি তার ওপর আল্লাহতায়ালার ক্রোধ পতিত হওয়ার ফলে তার ওপর নেমে আসে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য। পক্ষান্তরে ব্যবসায় অসততার পথ অবলম্বন না করে সৎ ব্যবসায়ী হলে আল্লাহ খুশি হয়ে তার জন্য বরকতের দরজা খুলে দিয়ে তাকে অপ্রত্যাশিত রিজিক দান করেন।

তার ব্যবসা হয়ে যায় এক মহান ইবাদত। ফলে হাশরের ময়দানে মহান পুরস্কার পেয়ে ধন্য হন আদর্শ ব্যবসায়ীরা। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা হাশরে নবীগণ, সিদ্দিকগণ ও শহীদগণের সঙ্গে হাশর হবে (তিরমিজি)। একজন ব্যবসায়ীর জন্য হাশরের ময়দানে নবীগণের সঙ্গী হওয়ার মতো সৌভাগ্যের চেয়ে আশার বাণী আর কী হতে পারে!

যুবায়ের আহমাদ : খতিব, বাইতুশ শফিক মসজিদ, গাজীপুর।