মসজিদে তালা দেওয়ার বিধান

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

মসজিদে তালা দেওয়ার বিধান

ডেস্ক রিপোর্ট ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৮

print
মসজিদে তালা দেওয়ার বিধান

নামাজের সময় ছাড়া মসজিদে তালা দেওয়া যাবে কি যাবে না, সেই বিষয়টি নিয়ে এ আলোচনা।

প্রশ্ন : আমাদের দেশে প্রায় সব মসজিদই নামাজের সময় ছাড়া তালা দিয়ে রাখা হয়। এ ব্যাপারে কোনো কোনো মসজিদ কর্তৃপক্ষ বলেন, সব সময় মসজিদ খোলা রাখলে মসজিদ ময়লা হয়ে যায় এবং মসজিদের আসবাবপত্র চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অথচ আমরা অনেক সময় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অফিস টাইমের ফাঁকে কিছু অবসর সময় পাই। তখন আমাদের নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত বা অন্য দীনি বইপত্র পড়তে ইচ্ছা হয়। কিন্তু মসজিদগুলো তালাবদ্ধ থাকায় উপযুক্ত স্থান না পেয়ে আমরা তা পারি না।

জানতে চাই, উল্লিখিত সমস্যাকে সামনে রেখে এ ক্ষেত্রে শরিয়াহ সমাধান কী? উত্তর : মসজিদ মুসলমানদের ইবাদতের স্থান ও দীন শিক্ষার অন্যতম জায়গা। মসজিদ শুধু নামাজের জন্য নয়; বরং জিকির-আজকার, কোরআন তেলাওয়াত ও দীনি তালিমের জন্যও বটে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, মসজিদ হলো নামাজ, জিকির ও কোরআন পড়ার জন্য। -সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৮৫।

তাই নিয়ম হলো, ফরজ নামাজের সময় ছাড়াও মসজিদকে প্রয়োজন মোতাবেক ইবাদত, তালিম ও জিকিরের জন্য উন্মুক্ত রাখা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ বন্ধ রাখা ঠিক নয়। ইবনুল হুমাম (রহ.) বিনা প্রয়োজনে মসজিদ বন্ধ রাখাকে মানুষকে মসজিদ থেকে বাধা প্রদান করার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ‘তার চেয়ে বড় জালেম আর কে, যে আল্লাহর মসজিদগুলো তার নাম নিতে বাধা প্রদান করে এবং সেগুলো ধ্বংস সাধনে প্রয়াসী হয়।’ সূরা বাকারা (২) : ১১৪।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সব সময় মসজিদ খোলা রাখলে মসজিদের মালামাল হেফাজতের বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে কোনো কোনো ফকিহ প্রয়োজনের কারণে নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় মসজিদ বন্ধ রাখাকে জায়েজ বলেছেন। তাই এ ধরনের প্রয়োজনে অন্য সময় মসজিদ বন্ধ রাখার অবকাশ আছে।