ডোমারে বিলুপ্তির পথে বেতঝাড়

ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ | ৪ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ডোমারে বিলুপ্তির পথে বেতঝাড়

সোহাগ মামুন, ডোমার (নীলফামারী)
🕐 ১:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১

ডোমারে বিলুপ্তির পথে বেতঝাড়

নীলফামারীর ডোমারে হারিয়ে যাচ্ছে চির সবুজ বেতঝাড়। কালের বিবর্তনে এখন আর সহজে সেই চিরসবুজ বেতঝাড় দেখা যায় না। অনেকদিন আগে নীলফামারীর ডোমার বন বিভাগে লাগানো বেতগাছ উপজেলার বন বিভাগের রাস্তার পাশে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একটি ছোট বেতঝাড়।

এক সময়ে গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে ঝোপঝাড়ে অবহেলায় অযতেœও বেড়ে উঠত বেতগাছ। অযত্নে বেড়ে উঠলেও বেতের কদর কিন্তু এতটুকু কম ছিল না। বেতের শীতল পাটি গ্রামগঞ্জের মানুষের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। এছাড়াও বেতের তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র হাটবাজারের পাশাপাশি শহরেও বিক্রি হতো। কিন্তু অতি আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর বেতের জিনিসপত্র ব্যবহারে স্থান দখল করেছে প্লাস্টিকের পণ্য।

ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাবেদুল ইসলাম সানবীম বলেন, এক সময় উপজেলার গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের পতিত জমিতে বিশাল বিশাল জঙ্গল ছিল। সেসব জঙ্গলে রোপণ ছাড়াই প্রকৃতির নিয়মেই বেতগাছ জন্মাত। আর কাঁটা ভরা লম্বা চিকন গাছে সবুজ পাতা অবিরাম দোল খেত। বেত গাছের ফলকে বেতফল বলা হয়। এই ফল গোলাকার বা একটু লম্বাটে গোলাকার, ছোট ও কষযুক্ত টক মিষ্টি। এর খোসা শক্ত হলেও ভিতরটা নরম। বীজ শক্ত।

কাঁচা ফল সবুজ ও পাকলে সবুজাভ ঘিয়ে বা সাদা রঙের হয়। এটি থোকায় থোকায় ফলে। বেতগাছে ফুল আসে অক্টোবর মাসে আর ফল পাকে মার্চ-এপ্রিল মাসে। এটি অপ্রচলিত ফল হলেও অনেকের কাছে খুবই প্রিয়। এটি যেমন পুষ্টিকর তেমন সুস্বাদু ও ওষুধিগুণ সমৃদ্ধ। মূলত মাটির অবস্থাভেদে এই ফল খুব মিষ্টি হয়। আবার স্থানভেদে একটু টকও হয়। গ্রামের কৃষকের অতি প্রয়োজনীয় গাছ হিসেবে পরিচিত বেতগাছ।

নীলফামারী পলাশবাড়ি কলেজের প্রভাষক জাফর সাদেক বলেন, চিরসবুজ এই উদ্ভিদটি পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ৪৫ থেকে ৫৫ ফুট এবং কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি লম্বা হয়ে থাকে। এদের কাণ্ড দেখতে চিকন, লম্বা, কাঁটাময় ও খুবই শক্ত এবং শাখাহীন। সরু ও নলাকার কাণ্ড প্রস্থে সাধারণত ৫-১৫ মিলিমিটার। প্রতিটি কাণ্ডের আগা থেকে নতুন পাতা বের হয় ও বেড়ে ওঠে। কাণ্ড বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর নিচের অংশ পোক্ত হতে থাকে। কোনো ধারককে ধরে রাখার জন্য কাঁটাযুক্ত ধারক লতা বের হয়। বেতে ফুল ধরার আগে গাছ থেকে একধরনের মিষ্টি ঘ্রাণ আসে। তখন মৌমাছি, পিঁপড়া, মাছি এই রস খেতে বেত গাছে ভিড় জমায়।

ডোমার সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, মূলত আগে গ্রামের মানুষের ব্যবহারের জন্য চাল ও ধান পরিমাপের টালা, পাল্লা, ঝুড়ি, ঝাঁকা বা ধামা বা টুকরি, শীতল পাটি, হাত পাখা, হাতের লাঠিসহ বেতের চেয়ার, সোফা, দোলনা, ফুলদানি তৈরি হতো। প্রতিটি বাড়িতে ওইসব পণ্যের প্রচুর চাহিদা ছিল।

তবে ধীরে ধীরে এখন এসব পণ্যের কদর কমে গেছে। একদিকে পতিত জমিতে ফসল উৎপাদন করতে জঙ্গল কেটে ফেলছেন কৃষকরা। সেখানে এখন চাষ করা হচ্ছে নানা জাতের কৃষি ফসল।

 

 

 

 

 

 

 

 

 
Electronic Paper