আবাদি জমি ফিরে পেতে তিস্তার চরবাসী!

ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ | ৪ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

আবাদি জমি ফিরে পেতে তিস্তার চরবাসী!

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
🕐 ৮:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১

আবাদি জমি ফিরে পেতে তিস্তার চরবাসী!

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারীর চরে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের সরকারি রাস্তাটি দখলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। ফলে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী এবার কোদাল হাতে রাস্তাটি সংস্কারের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সাথে নিজেদের আবাদি জমি ফিরে পেতে প্রখর রোদে সেই চরে মানবন্ধন করেছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপি এই মানববন্ধনে অংশ নেয় তিস্তা শৌলমারী চরের কয়কশ চরবাসী। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয়দের বাঁধায় পড়েন। কিন্তু তাদের রাস্তা দখলমুক্ত করতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থান নেয়। বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর ক্ষিপ্ততা কালীগঞ্জ থানার বেশ কিছু পুলিশ সদস্য ও নির্মাণাধীণ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বেশ কিছু ‘দালাল’ বাঁধা দেয়ার চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়।

এদিকে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে পুলিশ এনে আন্দোলনে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে শৈলমারীর চরের অনেকে দাবি করেছেন। তারা বলছেন, বহু বছর ধরে ব্যবহৃত রাস্তা এবং নিজেদের আবাদি জমি তারা কোনো ভাবেই বেহাত হতে দেবেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রংপুরের গঙ্গাচড়ায় স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে চুক্তি করেছিল ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে পরবর্তিতে ইন্ট্রাকোর শেয়ার কিনে নেয় প্যারামাউন্ট বিট্র্যাক এনার্জী লিমিটেড নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠান। সেটি গঙ্গাচড়ার তিস্তা নদীর উপড় নির্মাণ না করে স্থান পরির্বতনের আবেদন করে পার্শ্ববতি জেলা লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের শৌলমারী চরে।

অনুমোদন না পেয়েও তিস্তা নদীর উপড় দিয়ে মূল প্রকল্পে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের জন্য তিস্তার বাম চ্যানেল প্রায় বন্ধ করে রাস্তা তৈরি কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। যার ফলে নদীটি দুই ধারায়(চ্যানেল) বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়ে ভেঙে যাচ্ছে ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। একেই সাথে একটি চক্রের মাধ্যমে তাদের ভুল বুঝিয়ে কমদামে ‘না দাবি’ লিখে নেওয়া হয়েছে কারো কাছে। কাউকে বায়না দিয়েই ‘বায়নাসূত্রে মালিক’ হয়ে ‘ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেডের’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও নানাভাবে রাতারাতি শৌলমারী চরটি প্রায় ২০০ একর জমি কাঁটাতারের বেড়ায় ঘিরে নেয়।

এছাড়াও বছরের পর যে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতেন যে রাস্তায় সে রাস্তা ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমেডেট বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে ওই এলাকার কেউ অবাদে যাতায়ত করতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।

মানববন্ধনে চরবাসীরা বলেন, বিভিন্ন সময় সৌর বিদ্যৎতের দালালরা ভয়ভীতি দেখিয়ে অল্প টাকায় জমি কিনে নিয়েছে। ফলে এবার সোনার ফসল আবাদ করা সম্ভব হয়নি।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিডেট চরবাসীর জমি দখল করে কাটাতারের বেড়া ঘিরে ফেলেছে। এতে স্থানীয় লোকজনসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষার্থীদের চলাচলের দুটি রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।

একাধিকবার ওই কোম্পানির লোকজনকে অনুরোধ করলেও তারা তা কর্নপাত করেননি। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকটা বাধ্য হয়ে শনিবার স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে কোদাল হাতে নিয়ে ওই রাস্তাটি সংস্কার করে দখলমুক্ত করেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিডেট এর কর্মকর্তা (ইঞ্জিনিয়ার) উত্তম কুমার রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 
Electronic Paper