প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ততা

ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ | ৪ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ততা

মোশাররফ হোসেন, নীলফামারী
🕐 ৭:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ততা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিল্পীরা। প্রতিমা তৈরির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে মণ্ডপগুলোতে। কয়েক দিনের মধ্যে রঙ এর কাজ শুরু করবেন মালিরা। এদিকে সাজসজ্জা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে মণ্ডপ কমিটি।

জেলা শহরের দেবীরডাঙ্গা ত্রি-নয়নী সেবা সংঘ পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, চারজনের একটি টিম প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউবা খড়, কেউবা বাঁশ ছিলানো, কেউবা বাঁধার কাজ, আর কেউবা খড়ে মাটি লাগানোর কাজ করছেন।

প্রতিমা শিল্পী দুলাল চন্দ্র রায় জানান, আমরা এখানে আটদিন থেকে কাজ করছি। সুরেশ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে কাজ করছি আমরা। প্রতিমা প্রস্তুত করতে আরও সাতদিন লাগবে। এরপর রং এর কাজ শুরু হবে। এর আগে আরও সাতটি স্থানে প্রতিমা প্রস্তুত করে এখানকার কাজ শুরু করেছি। এখানে প্রস্তুত হলে রং এর কাজ শুরু করা হবে, এক এক করে।

দলনেতা সুরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে এখানকার প্রতিমা বানানো হচ্ছে। ভালো মানের প্রতিমা বানাতে হলে কমপক্ষে এক লাখ টাকা খরচ করতে হয়।

তিনি বলেন, ৪০ বছর আগে যখন আমি কাজ শুরু করি তখন পাঁচশ টাকায় প্রতিমা বানিয়েছিলাম এখন ওই পাঁচশ টাকার প্রতিমা বানাতে এক লাখ টাকা লাগে। তিনি বলেন, আটটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছি আমরা। কোথাও ৩০ হাজার, কোথাও ৩৫ হাজার আবার কোথাও ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে বানিয়ে দিচ্ছি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার পেশাই প্রতিমা বানানো কিন্তু কোনো সুযোগ-সুবিধা পেলাম না কোথা থেকে।

সুটিপাড়া মণ্ডপে কর্মরত প্রতিমা শিল্পী গোপাল রায় জানান, করোনার কারণে কাজের দামও কমেছে। যে কাজ আমরা ৫০-৬০ হাজার টাকায় করতাম সে কাজ ৩০ হাজার টাকায় করতে হচ্ছে।

এখানে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে প্রতিমা বানাচ্ছি আমরা তিনজন। আরও চারটি মণ্ডপে বানিয়েছে।

দেবীরডাঙ্গা ত্রি-নয়নী মণ্ডপ কমিটির সহ-সভাপতি দিপু কুমার রায় বলেন, করোনার কারণে গতবারের দুর্গোৎসবে ভাটা পড়লেও এবার পরিবেশ গতবারের মতো নয়। তারপরও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পূজা কেন্দ্র পরিচালনা করব। আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে তাদের নিয়ে আমরা আলোচনা সভা করছি এবং গাইড লাইন দেওয়া হচ্ছে ইতোমধ্যে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে পূজা মণ্ডপে এক টন চাল দেওয়া হয়। এটির পরিমাণ বাড়ানো হোক। কারণ আমাদের মণ্ডপে সাড়ে চার লাখ টাকার মতো খরচ হয়। যেখানে খরচ বেশি সেখানে বরাদ্দ যেন বেশি দেওয়া হয়।

পূজা উদযাপন পরিষদ নীলফামারী জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার রায় বলেন, প্রতিমা প্রস্তুতকরণের কাজ চলছে এখন। সরকারি নির্দেশনা যেভাবে থাকবে সেভাবে মণ্ডপগুলোতে আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে কিছু নির্দেশনা মণ্ডপ কমিটিকে জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করব।

তিনি বলেন, জেলায় ৮৭০টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে এবারে।

 
Electronic Paper