ফুলবাড়ীতে নামমাত্র মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা

ঢাকা, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ফুলবাড়ীতে নামমাত্র মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা

মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
🕐 ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২১

ফুলবাড়ীতে নামমাত্র মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে করোনার প্রভাবে এ বছর পশু কোরবানির পরিমাণ অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে। গত বছর যে পরিমাণ চামড়া কেনা হয়েছিল এবার তারচেয়েও কম চামড়া কেনা হয়েছে। এবার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদেরও তেমন একটা দেখা মেলেনি। এবার পানির দরে বিক্রি হয়েছে করবানির পশুর চামড়া। অনেকটা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হয়েছে এবারের কোরবানির পশুর চামড়া। সবমিলিয়ে চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। এতে বঞ্চিত হয়েছে দুস্থ ও এতিমখানাগুলো।

প্রকারভেদে প্রতিটি গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৪০০ টাকা ও ছাগলের চামড়া ৫-১০ টাকায় কেনা হয়েছে। তবে বড় গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মূল্য কম হওয়ায় অনেক কোরবানিদাতা চামড়া বিক্রি না করে কেউ নদীতে ফেলে দিয়েছেন কেউ মাদরাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন। এবার পশুর চামড়ার দাম কম হওয়ার দুস্থরা বঞ্চিত হয়েছেন।

ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঈদের দিন সকাল ১১টার পর থেকে চামড়া কেনাবেচা শুরু হয়। গরুর চামড়া ১০০ টাকা (গাভী) থেকে ৪০০ টাকায় (ষাঁড়) বিক্রি হয়েছে। তবে বড় সাইজের গরুর চামড়া (২৫-৩০ বর্গফুট) ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় কেনা হয়েছে। ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকায়। ভেড়ার চামড়ার দাম দেয়া হয়নি। বিক্রেতারা অনেকে গরুর চামড়ার সাথে ছাগলের চামড়া ফ্রি দিয়ে গেছেন ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয় পৌর প্যানেল মেয়র মো: মামুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা যৌথভাবে কোরবানির আয়োজন করেছিলেন।

তিনি বলেন, করোনার কারণে অনেকের আয় কমেছে। আবার অনেকের চাকরি ও ব্যবসা নেই। ফলে কোরবানির এই অবস্থা।

কাঁটাবাড়ী নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছাখোয়াত হোসেন জানান, গত বছর তাদের গ্রামে ১৫টি পশু কোরবানি হয়েছিল। এবার সেখানে ৪টি কোরবানি হয়েছে।

মাদিলা হাটের কোরবানিদাতা রইস উদ্দিন জানান, তিনি অনেক দরকষাকষি করে একটি গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ১৬০ টাকায়।

বেজাইমোড় এলাকার শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ৫টি ছাগলের চামড়া ৪০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে বাজারে এনেছেন বিক্রি করতে। ব্যবসায়ীরা ৫টি ছাগলের চামড়া ২৫ টাকা দাম বলেছেন, তাই তিনি চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দেন।

ফুলবাড়ী উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে এবারের কোরবানিতে। ফুলবাড়ী বাজারের চামড়ার ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গতবারের চেয়ে এবার অর্ধেকরও কম পরিমাণ চামড়া তারা সংগ্রহ করেছেন বেপারিদের কাছে বিক্রির জন্য।

চামড়া ব্যবসায়ী কোরবান আলী, সাইলু, মজিবরসহ অনেকে জানান, গত বছর তারা যে পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। এবার দর পতনের কারণে তার চেয়ে অনেক কম চামড়া সংগ্রহ করেছেন।

ফুলবাড়ীর চামড়া ব্যাবসায়ী শাকিল আহম্মেদ জানান, হাজারীবাগের পুরোনো একটি ট্যানেল ছিল, এখন নাই। সেই সাথে বিদেশে চামড়া রপ্তানি হচ্ছে না, সে কারণে চামড়ার চাহিদা কমে যাওয় চামড়ার এই দর পতন।

পাইকারী চামড়া ব্যবসায়ী সেলিম জানান, তিনি হিলি থেকে ফুলবাড়ী এসেছেন চামড়া কিনতে। তিনি এবার একটি গরুর চামড়া কিনছেন ২৫০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত, ছাগলের চামড়া ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত। তিনি প্রতিবছর এক হাজার চামড়া কেনেন কিন্তু এ বছর চামড়া কিনেছেন ৬০০টি।

তিনি বলেন, লকডাউন আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে খুব বেশি চামড়া কিনতে সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে কোরবানির গরু-ছাগলের চামড়ার কেনাবেচা নিয়ে বিক্রেতা ফরিয়া ও বেপারি, তিনপক্ষই অসন্তুষ্ট।

বিক্রেতারা বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্য পাচ্ছেন না তারা। ফরিয়ারা বলছেন, যে দামে বিভিন্ন মহল্লা থেকে চামড়া কিনেছেন, সেই দামে বেপারিদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না।

আর বেপারিরা বলছেন, যে দামে চামড়া কেনার কথা সে দামে পাচ্ছেন না তারা। চামড়ার বাজারের এই অবস্থার কারণে অনেকেই তাদের পশুর চামড়া বিভিন্ন এতিমখানাগুলোতে বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন। চামড়ার দরপতনকে করোনা আর ট্যানারি মালিকদের দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

 

 
Electronic Paper