সুন্দরগঞ্জে প্রত্যয়নের টাকা জোর পূর্বক আদায়

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

সুন্দরগঞ্জে প্রত্যয়নের টাকা জোর পূর্বক আদায়

সুদীপ্ত শামীম, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি ৬:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০২১

print
সুন্দরগঞ্জে প্রত্যয়নের টাকা জোর পূর্বক আদায়

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক মাদ্রাসায় প্রত্যয়ন পত্র দেওয়ার নামে ১০০-১৫০ টাকা জোড় পূর্বক আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা সুপারিন্টেন্ডেন্ট এর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সুন্দরগঞ্জের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত সুন্দরগঞ্জ সদর কারিগরী দাখিল মাদ্রাসায় প্রতিটি প্রত্যয়ন পত্র নিতে শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে ১'শ থেকে ১৫০ টাকা। এসব টাকা মাদ্রাসা সুপারকে দিতে হয়, কেননা টাকা না দিলে তিনি প্রত্যয়ন পত্রে স্বাক্ষর করেন না। যা একাধিক শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি হয়ে যায়। বিশেষ করে বৃত্তি প্রত্যাশী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য এটা বেশ কষ্টসাধ্য।

সরেজমিনে মাদ্রাসায় গেলে এমন চিত্র গুলো সাংবাদিকদের চোখে পড়ে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমি আবেদন করার জন্য মাদ্রাসায় এসে প্রত্যয়ন পত্র চাইলে স্যার আমার কাছে ১'শ টাকা চায় নইলে তিনি স্বাক্ষর করবেন না বলে কাগজটি (প্রত্যয়ন) আমার দিকে ছুড়ে দেন।

লিমা আক্তার নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি অনেকক্ষন থেকে এসে দাঁড়িয়ে আছি প্রত্যয়ন পত্র নেওয়ার জন্য কিন্তু টাকা ছাড়া স্যার প্রত্যয়ন দিচ্ছে না।

এদিকে গুজবে কান দিয়ে সকল শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারে এসে ভীর জমিয়ে ২'শ থেকে ৩'শ টাকা আবেদন ফি হিসেবে দিচ্ছে। এর ফলে অনেকেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বৃত্তির আবেদন করতে পারে না। সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশগ্রহণে তৈরি হয় অনাগ্রহ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র শিক্ষার্থীদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে বৃত্তির আবেদন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণসহ অনেক সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে থাকে। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা নিজের মতো করে টাকা নিয়ে সাথে সাথে ইচ্ছামত তৈরী করে দিয়েছেন প্রত্যয়ন পত্র।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে ১'শ থেকে ১'শ ৫০ টাকা নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুঃ মাহমুদ হোসেন মন্ডল বলেন, প্রত্যয়ন পত্র দিতে কোন প্রকার টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রত্যয়ন দেয়ার জন্য জোড় পূর্বক টাকা আদায় করতে পারবেন না।