পীরগঞ্জে বন্ধ হয়নি অবৈধ ইটভাটা

ঢাকা, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

পীরগঞ্জে বন্ধ হয়নি অবৈধ ইটভাটা

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ১০:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

print
পীরগঞ্জে বন্ধ হয়নি অবৈধ ইটভাটা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের চাপোড় এলাকার এমবি ব্রিক নামে একটি ইটভাটা নিষিদ্ধ করা হলেও পুরোদমে চলছে ইট পোড়ানো কার্যক্রম। এতে এলাকায় কৃষি, স্বাস্থ্যসহ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি পীরগঞ্জ পৌর শহরের চাপোড় এলাকার এমবি ব্রিক নামে একটি নিষিদ্ধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই অভিযান পরিচালনা করে। লিখিত অঙ্গীকার মতে এক মাসের মধ্যে নিষিদ্ধ ভাটাটি বন্ধ করে এর সবকিছু সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও ভাটা সরিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা এখনও বন্ধ করা হয়নি ইট পোড়ানো কার্যক্রম। পুরো দমে চলছে ভাটাটি।

মালিকপক্ষ বলছেন, সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আর পরিবেশ অধিদফতরের রংপুর আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক বলছেন, যেহেতু বন্ধ হয়নি, আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এর ৫/৭ ধারা মতে পৌরসভা এলাকায় ফিক্সড চিমনি ভাটা নিষিদ্ধ। এর আইন লঙ্ঘন করে পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ পাঁকা সড়ক সংলগ্ন পৌর শহরের চাপোড় এলাকায় লাইসেন্স ছাড়াই এমবি ব্রিক্স নামে একটি ইটভাটায় কাঠ দিয়ে প্রকাশে ইট পোড়ানো হচ্ছে।

এতে এলাকায় কৃষি, স্বাস্থ্যসহ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এ ভাটা বন্ধ করতে এলাকার লোকজন পরিবেশ অধিদফতর, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ইটভাটাটি গুড়িয়ে দিতে গত ২৪ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদফতরের রংপুর আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার বুলডোজার ও ফায়ার সার্ভিস সহকারে ওই ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ভাটায় ফায়ার সার্ভিস দিয়ে পানি ছিটিয়ে বুলডোজার দিয়ে ভাটার কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়।

লাইসেন্স না থাকায় মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে মালিক পক্ষের অনুরোধে ভাটা বন্ধ করাসহ তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক মাসের সময় দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভাটা মালিক শাহজাহান বলেন, আরও সময় চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এজন্য বন্ধ করেননি। নিউজ করার দরকার নাই, আপনাদের সঙ্গে দেখা করব।

দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা প্রভাষক তারেক হোসেন বলেন, একটার পর একটা আবেদন করে প্রশাসনের পরোক্ষ সহযোগিতায় বছরের পর বছর নিষিদ্ধ ইটভাটা গুলো চলানো হচ্ছে। এতে পরিবেশসহ জীব বৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। যাদের দেখ ভালো করার কথা তারা যদি কিছু না করেন, তাহলে করার কী আছে।

পরিবেশ অধিদফতরের রংপুর আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন শনিবার বিকালে মোবাইল ফোনে জানান, সময় চেয়ে আবেদন বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। নির্ধারিত সময়ে নিষিদ্ধ ভাটাটি যেহেতু বন্ধ হয়নি, সেহেতু আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব ছিল মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, সেটা করেছি, বাকিটা ডিএম (জেলা প্রশাসক) স্যার জানেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামানের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

পীরগঞ্জ উপজেলায় জেলা প্রশাসনের ফায়ারিং সার্টিফিকেট ছাড়াই অবৈধ ১৭ ইটভাটায় পুরোদমে ইট পোড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।