বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বেঁধে নির্যাতন

ঢাকা, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বেঁধে নির্যাতন

আনিছুর রহমান লাডলা, লালমনিরহাট
🕐 ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২১

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বেঁধে নির্যাতন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আকবর আলী ওরফে ধনী (৮০) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের নির্যাতনের ঘটনা গড়িয়েছে থানা অবধি। আর তা ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন বেশ কয়েকজন স্থানীয় মাতব্বর। যদিও রুখে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসী। তারা গতকাল রোববার ওই চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। নির্যাতনের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা উত্তর জাওরানী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। জানা গেছে, নির্যাতনের ঘটনায় গত শনিবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন ও গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আকবর আলী। এর আগে ওই দিন সকালে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের জাওরানী এলাকায় নিজ বাড়িতে নির্যাতন চালান চেয়ারম্যান।

সূত্র জানায়, আকবর আলীর ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে গ্রাম পুলিশ দিয়ে আকবরকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় চেয়ারম্যান বাড়িতে। পরে চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন ও গ্রাম পুলিশ মিলে তাকে বাঁধেন চেয়ারের সঙ্গে। এরপর শুরু করেন নির্যাতন। ঘটনা জানাজানি হলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাপে আকবরের হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শনিবার রাতেই ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন ও গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নির্যাতিত আকবর।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী বলেন, ‘গ্রামের চৌকিদার দিয়ে আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় চেয়ারম্যান। তার বাসায় চেয়ারে বসিয়ে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ স্বাধীন করে শেষ বয়সে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এমন আচরণ পেলাম।’ আকবর আলী এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু বিচার পেতে থানায় অভিযোগ করেছি।’

জানতে চাইলে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে কোনো মারধর করা হয়নি। তার ছেলে গরু চোর। এজন্য তাকে ডাকা হয়েছিল।’ নিজ বাড়িতে বিচার-সালিশ প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
Electronic Paper