অভিনব প্রতারণা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

অভিনব প্রতারণা

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ (রংপুর) ৬:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

print
অভিনব প্রতারণা

রংপুরের বদরগঞ্জে জন্মের তিন বছর পূর্বে একটি জাল দলিল তৈরি করে বৃদ্ধার চার কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পৌর শহরের শাহাপুর ছকিমুদ্দিনের ডাঙ্গা মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে জমির মালিক জোহরা খাতুন ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রংপুর আদালতে জাল দলিলের মামলা করেন। এদিকে ভূমিদস্যুর অভিনব প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ পৌর শহরের শাহাপুর ছকিমুদ্দিনের ডাঙ্গা মহল্লার তোবারক আলীর স্ত্রী জোহরা খাতুন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩ একর ৪৮শত জমি ভোগদখলসহ সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু একই গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে প্রতারক মোসলেম উদ্দিন তার দুই ভাই ইব্রাহীম এবং ইউসুফ আলীর সহযোগিতায় নিজের জন্মের তিন বছর পূর্বের একটি জাল দলিল তৈরি করে জোহরা খাতুনের কোটি টাকার জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। তৈরিকৃত ওই জাল দলিল নম্বর-৮৭২, রেজিস্ট্রির তারিখ-১৯ ফেব্রুয়ারি-১৯৫৯। অথচ মোসলেম উদ্দিন দলিল তৈরির তিন বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম ১২অক্টোবর-১৯৬২সালে। শুধু তাই নয়, মোসলেম উদ্দিনের জন্মের আগে জমির দলিল হলেও তাতে নাবালক কথাটি লেখা নেই।

ভুক্তভোগী জোহরা খাতুন বলেন, প্রতারক মোসলেম উদ্দিন বিগত ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯ সালের একটি জাল দলিল তৈরি করে নিজেকে আমার চার কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক দাবি করছেন। সেইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে একটি কুঁড়েঘরে কোণঠাসা রেখে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আমার জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন। আমি সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি একজন অসহায় নারী হওয়ায় তাদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পেরে রংপুর আদালতে জাল দলিলের মামলা করেছি। আমি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই, এবং সংঘবদ্ধ প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তবে অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিন বলেন, জোহরা খাতুন আমাদের ব্যাপারে খুব বেশি বাড়াবাড়ি করছেন। এর ফল ভালো হবে না।

অন্যদিকে আদালতে মামলার পর আদালত বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআই রংপুরকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব ভার দেন। কিন্তু পিবিআই তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেননি বলে ওই মামলার আইনজীবী মোকাম্মেল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার রংপুর পুলিশ ব্যুরো ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তকারী কর্মকর্তা অসীম কুমার বলেন, জাল দলিল সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ব্যাপক তদন্ত শেষে আদালতে রিপোর্ট পেশ করা হবে। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব।