মুলা নিয়ে বিপাকে কৃঘক, কেজি ১ টাকা

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ৯ মাঘ ১৪২৭

মুলা নিয়ে বিপাকে কৃঘক, কেজি ১ টাকা

আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০২০

print
মুলা নিয়ে বিপাকে কৃঘক, কেজি ১ টাকা

লালমনিরহাট আদিতমারী শীতকালীন সবজি মুলা এখন পানির দামে ১ টাকায় ১০ কেজি মুলা। ক্রেতা নেয় বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে কৃষক হাট-বাজারে মুলার বস্তাসহ ফেলে আসতে হচ্ছে। কৃষক এখন মুলা নিয়ে বিপাকে পড়ে গেছে। পরবর্তী সবজি ফসল চাষ করতে খেত পরিষ্কার করতে পাইকারদেরকে ফ্রি দিতে নিতে দেখা গেছে। আর জমি ফাঁকা করতে না পারলে, পরবর্তী আবাদ হিসেবে আলু চাষে ব্যাহত হবে।

এখনকার কৃষকরা প্রতি বছর মুলাসহ অনেক সবজি চাষ করে বেশ লাভবান হয়ে থাকে। সেই আশায় এবছর শত শত কৃষকরা বেগুন, লাউ, কপি চাষ করে লাভবান হলেও মুলাতে চাষে লোকসান পোহাতে হচ্ছে। মুলার দাম না থাকায় পাইকারদের চাহিদা কম। অনেক কৃষকের খেতে মুলা পড়ে আছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামীম আশরাফ বলেন, প্রায় একই মৌসুমে একই সঙ্গে সব চাষি এক একটি ফসল চাষাবাদ শুরু করলে বাজারে চাহিদা কমে গিয়ে দরপতন হয়। মুলার ক্ষেত্রেও এবার সেটাই হয়েছে। ফলে চাষের আগে বাজারের চাহিদা কৃষকদেরই নির্ধারণ করতে হবে। তাই বুঝে শুনে ও বাজারের চাহিদা দেখে যেকোনো ফসল চাষ করলে দাম পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে সবজিতে ১০৭০ হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ১১০০ হেক্টর, এর মধ্যে মুলা চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৫ হেক্টর অর্জিত হয়েছে ১৬৫ হেক্টর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদিতমারীর সারপুকুর, কমলাবাড়ি, ভেলাবাড়ি ও দুর্গাপুর ভাদাই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রচুর পরিমাণে সবজি চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে মুলাও সবচেয়ে বেশি পরিমাণ সবজি চাষ হয় কমলাবাড়ী ইউয়িনের বিভিন্ন এলাকায়। এবার সবজির সঙ্গে মুলা চাষ হয়েছে ব্যাপক হারে।

মৌসুমের শুরুতে লালমনিরহাটের স্থানীয় খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে খুচরা বাজারেও বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন টাকা কেজি ধরে। আর কৃষকের মাঠে বর্তমানে পাইকারি দরে প্রতি মণ (৪০কেজি) ১০ থেকে ২০ টাকা দরে। এই অবস্থায় জেলার অনেক মুলা চাষি খেত থেকে মুলা তুলতে শ্রমিকের খরচ জোগাতে না পেরে গবাদিপশু দিয়ে নষ্ট করে ফেলছেন একরের পর একর খেত। অনেকে আবার ভুট্টা চাষের জন্য ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে মুলা খেত নষ্ট করছেন।

কৃষকরা বলছেন, আগাম মুলা নষ্ট হয়েছে অতিবৃষ্টি-বন্যায়। দ্বিতীয় দফায় ফসলটি লাগানোর পর এখন তারা দাম না পেয়ে চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। গত দুই দিন লালমনিরহাটের আদিতমারী ও সদর উপজেলা সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

কমলাবাড়ি গ্রামের কৃষক হামিদুল মিয়া তার কষ্টের কথা জানান, দুই দোন (৫৪ শতক) জমিতে মুলা চাষ করে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মত এখন মুলা কেউ নেয় না। এখন জমি ফাঁকা করতে না পারলে, পরবর্তী আবাদ হিসেবে আলুও রোপণে দেরি হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে মুলা খেত পরিষ্কারের স্বার্থে (জমি ফাঁকা করবেন) ফ্রিতে দিয়েছেন এক পাইকারকে।

আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আজাহার আলী (৫২) একই এলাকার ধীরেন্দ্র থাথ (৫৫) কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক বেচু মিয়া, জিয়াব উদ্দিন, জয়নাল হকসহ আরও অনেক কৃষককের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, শেষ সময়ে এসে মুলা নিয়ে তারা চরম বেকায়দায় রয়েছেন।

এ সময় তারা বলেন, প্রতি দোন জমির (২৭ শতক) মুলা ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেন, প্রথমত ক্রেতার অভাব আর দ্বিতীয়ত পরবর্তী আবাদের সময় ফুরিয়ে যাওয়ায়। কৃষক আজাহার আলী বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজেরাই জমি থেকে মুলা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। জমিতে আলু লাগানোর সময় ফুরিয়ে আসায় ব্যবসায়ীরা ফ্রিতে মুলা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ এক প্রকার পানির দরে বিক্রি না করে নিজের ফসল নিজেই নষ্ট করছেন।

আদিতমারী উপজেলার কুমড়িহাট এলাকার পাইকারি ব্যাপারী নজরুল ইসলাম বলেন, বছরের শুরুতে মুলার ব্যবসায় যথেষ্ট পরিমাণে লাভ হলেও বর্তমানে ট্রাকের ভাড়া উঠানোই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, গত রোববার কুমিল্লার মিনসায় এক ট্রাক মুলা নিয়ে গিয়ে ক্রেতা না পাওয়ায় সেই মুলা ফেলে দিয়ে এসেছেন। এতে তার ট্রাক ভাড়াই গচ্চা গিয়েছে ৪০ হাজার টাকা।