রাজারহাটে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ ১৪২৭

রাজারহাটে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ

সরকার অরুণ, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

print
রাজারহাটে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ

রাজারহাটের একটি বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে আদালতে বিচারাধীন মামলা থাকায় বিবাদী পক্ষ ভাড়াটে প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে গোপনে নামমাত্র নিয়োগ পরীক্ষা দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে।

অভিযোগ উঠেছে, এতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান পূর্বে উক্ত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নীতিমালা পরিপন্থী প্রতিবেদন দাখিলের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলাম।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম জানান, প্রথমে নিয়োগ স্থগিত করার চিঠি প্রদান করা হলেও শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক দীর্ঘদিন পূর্বের গঠিত কমিটিতে নতুন করে অভিযোগ আমলে নেওয়ার সুয়োগ নেই জানালে, আমি উক্ত স্থগিতাদেশ বাতিল করেছি। পরে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ হয়েছে কিনা জানিনা।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা সদরের সুন্দর গ্রাম পুটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবককে বাদ দিয়ে গোপনে এবং অভিভাবক না হওয়া সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন দফতরে বিতর্কিত কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সম্প্রতি রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলমও অভিযোগের প্রেক্ষিতে লিখিত নির্দেশনায় উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেন। তবে কমিটি বাতিল না করায় গত ২৮ অক্টোবর সুন্দর গ্রাম পুটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে রাজারহাট সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যা বিচারাধীন রয়েছে।

এমতাবস্থায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিতর্কিত সভাপতি মনিরুজ্জামান বুলু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে উঠে পড়ে লাগেন। এক পর্যায়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করার অভিযোগ উঠে। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তারা নামমাত্র প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার আয়োজন করেন। এই সাজানো নিয়োগ পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষক পদে দুই বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষককে প্রতিদ্বন্দ্বী দেখানো হয়। গত দুইদিন পূর্বে ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এর আগে রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বাতিল সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনে ওই বিদ্যালয়ের নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গঠন সংক্রান্ত প্রতিটি স্তরে তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সত্যতা ও কমিটি গঠন নীতিমালা ২০২০৯ ও সংশোধনী ১ জানুয়ারি ২০১৭ বিধি পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। অথচ পরবর্তী সময় তাকে ম্যানেজ করে কথিত নিয়োগ বোর্ডে তাকে সদস্য হিসেবে উপস্থিত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রথমে নিয়োগ স্থগিতের চিঠি ইস্যু করলেও পরে কথিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সুন্দরগ্রাম পুটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ তো পেয়েছি, কি যে হবে জানি না।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান বুলু বলেন, যেভাবেই হোক বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।