নীলফামারীতে পূজার কেনাকাটায় ভাটা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

নীলফামারীতে পূজার কেনাকাটায় ভাটা

মোশারফ হোসেন, নীলফামারী ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

print
নীলফামারীতে পূজার কেনাকাটায় ভাটা

শারদীয় দুর্গা উৎসব। এ উৎসব ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারে থাকে কেনাকাটার ধুম। পোশাক, শাড়ির ও প্রসাধনীর দোকানেও থাকে ভিড়। কিন্তু এবার করোনার প্রভাবে নীলফামারীতে নেই সে আমেজ। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায় এমন মন্দাভাব। ক্রেতাশূন্যতায় অলস সময় পার করছেন দোকানিরা।

বড় মসজিদ সড়কের কাপড় ব্যবসায়ী সততা স্টোরের মালিক আসাদুল ইসলাম বলেন, পূজায় অন্য বছর যে পরিমাণ কাপড় বিক্রি হতো তার এক ভাগও বিক্রি হচ্ছে না এবার। করোনার কারণে মানুষের যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকির ভয় আছে, তেমনি অর্থনৈতিক মন্দাও রয়েছে। করোনা ঝুঁকির কারণে অনেকেই নতুন জামা-কাপড়সহ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করেছেন অনলাইন মার্কেট থেকে। একই সুরে কথা বললেন ক্রেতারাও। পকেটে টাকা নেই, কেনাকাটাও তাই মন্দায়, জানালেন তারা। বাবুপাড়ার মৃদুল মজুমদার (৪৫) বলেন, করোনায় আয়-রোজগার কমেছে। সামর্থ্য না থাকায় পূজায় কেনাকাটা কমেছে। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় আমি এবার অর্ধেক কেনাকাটা করেছি। আমার মতো অবস্থা অনেকেরই। আবার অনেকেই করোনার কারণে পূজার কেনাকাটা করেছেন অনলাইন মার্কেটে।’ একই এলাকার লীনা দে (৪৭) বলেন, পূজা আসলে নতুন জামা-কাপড় কেনার একটা তাগিদ থাকত। অন্যান্য বছর এ সময়টাতে বাজারে বিভিন্ন দোকান ঘুরে পছন্দের কাপড় কিনতাম। কিন্তু এবার কারোনা ঝুঁকির কারণে বাজারে না গিয়ে অনলাইন মার্কেটে কেনাকাটা করেছি।

জেলায় এবার ৮৪৭ মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে উৎসব পালনের প্রস্তুতি চলছে এসব মণ্ডপে।

জেলা প্রশাসনের সূত্রমতে, ৮৪৭ মণ্ডপের মধ্যে জেলা সদরে ২৭৭, জলঢাকায় ১৭৮, ডোমারে ৯৭, সৈয়দপুরে ৭৯, কিশোরগঞ্জে ১৪১, ডিমলায় ৭৫টি রয়েছে। এসব মণ্ডপের পূজার খরচ নির্বাহের জন্য  প্রতিটিতে ৫০০ কেজি করে মোট ৪২২ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই বরাদ্দ উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিধি মেনে পূজা আয়োজনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রমেন্দ্র নাথ বর্ধন বাপ্পী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকারি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক নির্দেশনা মেনে এবারে স্বল্প পরিসরে পূজা উদযাপিত হবে। এ কারণে জাঁকজমক পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে না।