কার্তিকেও রুদ্ররূপে তিস্তা

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কার্তিকেও রুদ্ররূপে তিস্তা

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ২:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

print
কার্তিকেও রুদ্ররূপে তিস্তা

কার্তিক মাসেও কুড়িগামের রাজারহাটে তিস্তায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। রাক্ষুসী তিস্তার করাল গ্রাসে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতশত একর ফসলী জমি ও বসতভিটা। হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পরেছে, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে তীরবর্তী মানুষরা। এ অবস্থায় ভূক্তভোগীরা ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি, পাড়ামৌলা, কালির মেলা, চতুরা, গাবুর হেলান, রতি, তৈয়বখাঁ, বিদানন্দসহ ৮টি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

চলতি মৌসুমে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি, গাছপালা ও ফসলী জমি। অব্যাহত ভাঙনের কারণে হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়েছে রামহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈয়বখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামে মসজিদ, মন্দির, কালির মেলা থেকে বিজলি বাজার পাকা রাস্তাসহ গ্রামের সহস্রাধিক বাড়িঘর।

চলতি মৌসুমে শুধু রামহরি গ্রামেই নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে ২০টি পরিবার। ওই গ্রামের ঐতিহ্যবাহি পরিবার ওহাব ধনীর। সর্বশেষ এবারে তাদের আধাপাকা বাড়িটি নদী গর্ভে চলে যাওয়ার পর সর্বশান্ত হয়ে তারা স্ব-পরিবারে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা শহরে। এখনও নদী গর্ভে বিলীন হওয়া বাড়িটির ভগ্নাংশ পরে রয়েছে। প্রতি বছর বন্যার পানি কমতে শুরু করলে প্রকট হয় নদী ভাঙন।

রামহরি গ্রামের আব্দুল কাদের জানান, আমার বয়সে তেরবার নদী ভাঙছে, এখন বাড়ি করার মতন জায়গা নাই। অন্যের জায়গায় একনা ঠাই নিয়া আছি।

তৈয়বখাঁ গ্রামের বিমল চন্দ্র বলেন, নদীর উপরা ৩টা ঘর নিয়া আছনো, তাও নদীত গেইছে। বেটা-বেটি বিয়ার লাইক হইছে, বাড়িঘর নাই বিয়া দিবার পাও না।

ওই গ্রামের আব্দুল গণি, হক্কানি ও আব্দুল ওয়াহাবসহ অনেকেই বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না। সরকার যেন নদী ভাঙন রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা করেন। উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, এক যুগে নদী ভাঙনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মানচিত্র বদলে গেছে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এখন শরৎকাল, এই মহুর্তে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরী কিছু করার নেই।