রংপুরে আগাম আলু চাষে ভাটা

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রংপুরে আগাম আলু চাষে ভাটা

জিতু কবীর, রংপুর ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

print
রংপুরে আগাম আলু চাষে ভাটা

দফায় দফায় বন্যায় রংপুরের পাঁচ জেলায় আগাম আলু চাষে ভাটা পড়েছে। নীলফামারি বাদে অন্য চার জেলায় চাষ হয়েছে মাত্র ৮ হেক্টর জমি। অথচ গত মৌসুমে এ অঞ্চলে আগাম আলু চাষ হয়েছিল ১২ হাজার ২৫ হেক্টর জমি। তুলনামূলক চিত্রে এ বছরের আলুচাষ অর্ধেকও হবে কি-না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে আগাম আলু চাষ হয়েছে মাত্র ৯৮৯ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নীলফামারী জেলাতেই আবাদ হয়েছে ৯৮১ হেক্টর। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকরা। কিন্তু বন্যার কারণে অধিকাংশ আলু চাষি নির্দিষ্ট সময়ে কয়েকবার জমি পরিচর্যা করেও বীজ রোপণ করতে পারেননি। এমনকি কেউ কেউ বীজ রোপণ করলেও তা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর অঞ্চলের আগাম আলু চাষিরা জমি পরিচর্যা ও বীজ রোপণে কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের কৃষক বাবলু জানান, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আগাম আলু আবাদ করার কথা ছিল। এমনকি বন্যার কারণে তার রোপণকৃত কিছু জমির আলু নষ্ট হয়েছে। তাই পানি নেমে যাওয়ায় পুনরায় আলুর আবাদ নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের পশ্চিম কচুয়া বালাপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, কয়েকবার জমি ঠিক করেও বৃষ্টির কারণে আগাম আলু রোপণ করতে পারেননি। এ বছর ২ বিঘা জমিতে ক্যারেজ জাতের আলু আবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একাধিক কৃষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বন্যার কারণে আলুর আবাদের সমস্যা না হলে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বাজারে আগাম আলু পাওয়া যেত। ভালো দাম পাওয়ার জন্য কেউ কেউ ৪৫ থেকে ৫০ দিনের আগে আলু উত্তোলন করলেও মূলত আগাম আলু ৫৫ থেকে ৬০ দিন পর বাজারে আসে। শুরুতে এই আলু ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও নিয়মিত আলু আসার আগ পর্যন্ত কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তাই ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলে আগাম আলুর জমি প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগাম আলু হিসেবে জনপ্রিয় জাতগুলোর অন্যতম হচ্ছে, আলু-৭, গ্রানুলা এবং ষাইটা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রংপুর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলে মূলত নীলফামারী এবং রংপুর জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আগাম আলু চাষ হয়ে থাকে। তবে আলু চাষে এগিয়ে আছে নীলফামারী জেলার কৃষকরা। গত (২০১৯-২০) মৌসুমে আগাম আলু চাষ হয়েছিল ১২ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নীলফামারী জেলায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর এবং রংপুর জেলায় ২ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর আবাদ হয়েছিল। কিন্তু দফায় দফায় বন্যার কারণে এবার আলু চাষ ব্যাহত হয়। চলতি (২০২০-২১) মৌসুমের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট আলু চাষ হয়েছে মাত্র ৯৮৯ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নীলফামারী জেলায় আলুর আবাদ হয়েছে ৯৮১ হেক্টর এবং রংপুরে আবাদ হয়েছে ৮ হেক্টর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাধারণত সেপ্টেম্বর মাস থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগাম আলুর আবাদে উপযুক্ত সময়। দফায় দফায় বন্যার কারণে অনেক জমির পানি ধীরে ধীরে অপসারণ হচ্ছে। আবার অনেক জমির পানি নেমে গেলেও পর্যাপ্ত রস থাকায় কৃষকরা আলু চাষ করতে পারছেন না। তারপরও কৃষকদের সব রকম প্রস্তুতি থাকায় এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর যেভাবে তারা আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন, আশা করা যাচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ব্যাপক জমিতে আলুর আবাদ হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন এজন্য কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।