লালমনিরহাটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

লালমনিরহাটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমান

আনিছুর রহমান লাডলা, লালমনিরহাট ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

print
লালমনিরহাটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমান

লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের গুড়িয়াদহ বাঁশের তল এলাকায় মাটি খনন করতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যুদ্ধবিমানের মূল ইঞ্জিন (প্রপেলার), ২টি ল্যান্ডিং গিয়ার, ওয়েল বার্নিং এক্সজস্ট (সাইল্যান্সার), এমিউনেশন্স, ৫টি গান ও বিমানের কিছু টুকরো যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটি কোন দেশের তৈরি বা কোন দেশের যুদ্ধবিমান ছিল তা নিশ্চিত করতে পারেনি বিমান কর্মকর্তারা। এদিকে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

জানা গেছে, লালমনিরহাট বিমানবন্দর রানওয়ে থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি চাষের জমির মাটির নিচ থেকে যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ ও আরও কিছু যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার ওই এলাকার রেজাউল করিম তার জমির উঁচু অংশ সমান করতে গিয়ে গত শুক্রবার এর সন্ধান পান। পরে বিমান বাহিনীর লোকজনকে খবর দেন। খবর পেয়ে বিমান বাহিনী এবং প্রশাসনের লোকজন এসে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। পরে সেখান থেকে যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি), বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদুল হাসান মাসুদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলছিল।

জমির মালিক রেজাউল করিম বলেন, তার আবাদি উঁচু জমি নিচু করার জন্য মাটি কাটা শ্রমিক কাজ করছিল। শুক্রবার দুপুরের দিকে সোহেল মিয়া নামে একজন শ্রমিক ৮/১০ কেজি ওজনের কিছু গুলি সদৃশ বস্তু প্রথমে দেখতে পান। আমাকে জানালে থানায় খবর দিই। পরে পুলিশ এসে সেগুলো নিয়ে যায়। এরপর শনিবার সকালে বিমান বাহিনীর লোকজন, পুলিশ ও ডিসি অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরা উপস্থিত থেকে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে পাঁচ ফুট মাটির নিচ থেকে যুদ্ধবিমানের বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করেছে। এখনও কাজ চলছে।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি শাহা আলম বলেন, থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে সরজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। পরে আমরা রাতেই লালমনিরহাট বিমান বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করি। এরপর শনিবার সকাল থেকে লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান ইউনিটের একটি দল, পুলিশ, স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) টি.এম রাহসিন কবিরের উপস্থিতিতে বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার কাজ শুরু করে।

লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদুল হাসান মাসুদ বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম চলমান। আমরা বিমানের বেশকিছু অংশের জিনিসপত্র পেয়েছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে এই মুহূর্তে আমার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, পুলিশ ও বিমান বাহিনীর মাধ্যমে অবগত হয়েছি। শনিবার উদ্ধার কার্যক্রমে যেন কোনো প্রকার আইনগত বাধা বিপত্তি না ঘটে সেজন্য নেজারত ডেপুটি কালেক্টর টি.এম রাহসান কবিরকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, বিমানের ধ্বংসাবশেষগুলো উদ্ধারের পর যদি জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাহলে সেগুলো জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে। আর যদি বিমান বাহিনী নিয়ে যায়, তারাও সেগুলো নিয়ে যেতে পারেন। তবে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।