রংপুরে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রংপুরে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায়

রংপুর অফিস ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

print
রংপুরে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায়

ভিসা জটিলতায় এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল (সাপ্লিমেন্টারি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে রংপুরে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে অন্য দুটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে দিলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তারিখ না পেছানোয় এ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা ভিসাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পরীক্ষার সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রংপুরের বেশ কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হলে এসব বিদেশি শিক্ষার্র্থী নিজ নিজ দেশে চলে যান। এরমধ্যে এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুয়াযী গত মে মাসে এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে পরীক্ষাগ্রহণ স্থগিত হয়ে পড়ে। ফলে পরবর্তীতে এর তারিখ ঘোষণা করা হয়। এতে সবদিক বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২৮ অক্টোবর থেকে এবং চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে।

তবে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তারিখ পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব নির্ধারিত ১৭ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। নেপাল ও ভুটানসহ অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে ফিরে আসলেও ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত আসতে পারেনি। সূত্র আরও জানায়, গতকাল বুধবার থেকে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদান শুরু হলেও এ স্বল্প সময়ে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষার তারিখ পেছানো না হলে রংপুরের সবকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ভারতীয় ৩৫-৪০জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অসংখ্য বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এতে দেশের সুনাম যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে।

তিনি বলেন, বুধবার থেকে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে। ভিসা প্রসেসিং করে দেশে আসতে ৪-৫ দিন সময় লাগবেই। নির্ধারিত ১৭ অক্টোবর পরীক্ষা হলে তারা অংশ নিতে পারবে না। বিদেশি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা না করে কর্তৃপক্ষ একক সিদ্ধান্ত নিলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে শিক্ষার্থীরা। তাই শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অন্য দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরও তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানান এই কর্মকর্তা।

সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. নওশাদ আলী বলেন, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একমাস আগে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আনতে না পারা সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের ব্যর্থতা এবং শিক্ষার্থীরা কবে নাগাদ আসতে পারবে সে বিষয়ে তারা (অধ্যক্ষ) এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতেও পারছে না। যদি তারা বলেন, আগামী চারদিনের মধ্যে সব শিক্ষার্থী এসে পড়বে, তাহলে পরীক্ষা সাতদিন পেছাতে কোনো আপত্তি নেই।