গরু নিয়ে গৃহস্থের কান্না

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

গরু নিয়ে গৃহস্থের কান্না

আরিফ সাওন, গাইবান্ধা থেকে ফিরে ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

print
গরু নিয়ে গৃহস্থের কান্না

খড় কোথাও বিক্রি হয় জমির কানি বা বিঘা হিসেবে; কোথাও স্তূপ বা পালা হিসেবে। কিন্তু গাইবান্ধায় দেখা গেল মণ হিসেবে ওজনে বিক্রি হচ্ছে। সেখানে বর্তমানে এক মণ খড়ের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। তাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই গোখাদ্যের সংকটে বিপাকে পড়েছেন সেখানকার মানুষ।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল অদুদ জানান, তার চারটি গরু রয়েছে। বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চারটি গরুর জন্য দিনে অন্তত এক মণ খড় দরকার। প্রতিদিন ৮০০ টাকা দিয়ে একমণ খড় কেনা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি গরু বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন। অনেক ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, কম দামে হলেও বিক্রি করে দেবেন। কিন্তু ক্রেতাই পাচ্ছেন না। শুধু আব্দুল অদুদ নন; গরুসহ অন্যান্য গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সেখানকার বেশিরভাগ গৃহস্থ।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার খোরদা গ্রামের সহিদুল জানান, তিনি কয়েক মাস আগে ৩০ হাজার টাকায় একটি গাভী কিনেছিলেন। খাদ্য সংকটে তিনি গাভীটি ৬ হাজার টাকা লোকসানে ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

কান্তনগর বাজারের পাশের আবু জানান, নিজেরাই কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন। তার ওপর দুটি গরুও রয়েছে। গরু বিক্রি না করতে পারলে কী যে হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্যার ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। গৃহ পালিত প্রাণী নিয়ে তারা খুব সমস্যায় রয়েছেন। অনেকেই আছেন, যারা নিজেদেরই খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারছেন না।

গত ৭ অক্টোবর কান্তনগর বাজার থেকে নলডাঙ্গায় যাওয়ার পথে সড়কের পাশে ওজনে মেপে খড় বিক্রি করতে দেখা যায়। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা জানান, ৮০০ টাকা করে মণ বিক্রি করছেন। কয়েক দিনে হয়তো এক হাজার করে হয়ে যাবে। কথা হলে কয়েকজন জানান, অনেকেই এখন জমিতে থাকা ফলন না আসা ধান গাছ কেটেও গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

সুন্দরগঞ্জ হগোয়া গ্রামের মাইদুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা স্কুল শিক্ষক ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর বাবা একটি গরু কেনেন। গেল বছর বিক্রির পর তাতে ভালোই লাভ হয়। তারপর আরও একটি গরু কেনেন। এবার সেই গরু নিয়ে আমরা বিপাকেই আছি। বাগানের পাশে গাছের ডালপালার ছায়া পড়া জমিতে ফলন কম হয়। এখন খাদ্য সংকটের কারণে সেই জমির ধানের গাছ কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছি। কারণ ওই ধান গাছে ফলন ভালো হবে না।

ভারত থেকে গরু না আসায় কয়েক বছর কোরবানির সময় দাম ভালো পাওয়ায় অনেকেই কোরবানি টার্গেট করে গরু পালন করছেন। এখন বন্যার কারণে যে খরচ হচ্ছে, তাতে লোকশান শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ জানান, ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী জেলায় গরু আছে ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪৩৫টি, ছাগল ৭ লাখ ২ হাজার এবং ভেড়ার সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার।

তিনি বলেন, কয়েক দফায় বন্যার কারণে এসব প্রাণীর খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বাইরে থেকেও যেমন দিনাজপুর থেকে খড় আসছে। এতে বহন খরচ বেশি পড়ছে। ফলে অনেকের জন্য কিনে খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে।