আর নেই মঙ্গার চোখ রাঙানি

ঢাকা, শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আর নেই মঙ্গার চোখ রাঙানি

আশিক উল ইসলাম লেমন, ডিমলা, নীলফামারী ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২০

print
আর নেই মঙ্গার চোখ রাঙানি

এই তো সেদিনের কথা, আশ্বিন-কার্তিক আসলেই উঠত হাহাকার। অনাহারে কাটত তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলের মানুষের দিন। খেতে না পেয়ে অপুষ্টিতে ভুগে মারা যেত শত শত মানুষ। সংবাদ শিরোনাম হতো ‘মঙ্গাপীড়িত মানুষ খাদ্য চায়’, ‘মঙ্গায় মৃত হাজার হাজার’। এসব সংবাদ দেশ ছাড়িয়ে স্থান নেয় আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায়। অথচ গত দেড় দশকে সেই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এখন ভুলে গেছে মঙ্গার চোখ রাঙানি। ফসল আগাম ঘরে তুলে প্রতিহত করেছে মঙ্গার আকাল। নতুন প্রজন্মের চোখে এখন উন্নয়নের স্বপ্ন। মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে নিতে তারাও চায় অংশগ্রহণ। চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়ানোর দাবি তাদের। এলাকাবাসী মনে করছেন, বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়ানো হলে দেশ উন্নয়নের কাজে আরও এক ধাপ এগিয়ে আসতে পারবে তারা।

সরজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর ভাষানীর চরের আশপাশে জেগে ওঠা নতুন চরে চলছে আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াইরের উৎসব। এই ধান কাটা-মাড়াই শেষ করেই আগাম ভূট্টা, মিষ্টি কুমড়া, গম, মরিচ, পিঁয়াজ ও রসুনসহ নানা রকমের মসলা জাতীয় ফসল চাষে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষিরা।

আগাম ধান ঘরে তুলতে পেরে খুশি উপজেলার টেপাখাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, এ এলাকায় আশ্বিন-কার্তিক মাসের সেই মঙ্গা আর নেই। আধুনিক কৃষি উপকরণ ব্যবহারে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, আগাম ও অধিক ফলনশীল ফসল চিহ্নিত করে সেসব ফসল চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করায় আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি।

মকবুলের মতো আরও অনেক কৃষক একই মত পোষণ করে জানান, এক সময়ের মঙ্গাকবলিত এলাকার ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বর্তমান সরকারের আধুনিক কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি যথাসময়ে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহসহ কৃষি দফতরের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সংক্রান্ত নানান প্রশিক্ষণ। এছাড়া বেসরকারি বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন। তবে তারা চর এলাকায় বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান।

জানা যায়, সরকারের একাধিক কর্মসূচির আওতায় কৃষির পাশাপাশি বয়স্ক, বিধবা, প্রসূতি, পঙ্গু ও প্রতিবন্ধিভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ, শিক্ষাখাতে উপবৃত্তির মতো আরও অনেক সুবিধা পেয়ে আসছে চরাঞ্চলের মানুষ। বেসরকারি পর্যায়েও তৈরি হয়েছে নানা কর্মসংস্থানের সুযোগ। চরাঞ্চলেও হচ্ছে মোবাইলসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নীলফামারী জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, মঙ্গাপীড়িত উত্তর জনপদ আর অবহেলিত নয়। প্রতিটি কাজে গতিশীলতা এসেছে। সবকিছু সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে চরাঞ্চলে রোপণকৃত বিনা-৭ ও পটোলপারী জাতের ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। এই ফসল ঘরে উঠলে অনেকখানি চিন্তা কমে যাবে কৃষকের। সরকারি সহযোগিতায় উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে আধুনিক কলাকৌশলে আগাম ও অধিক ফলনশীল চাষাবাদে অভ্যস্ত হয়েছে তারা। এভাবেই তারা আগের সেই মঙ্গার ভয় ঘোচাতে পেরেছে।