চিলাহাটী-হলদিবাড়ী রেলপথে পরীক্ষামূলক ভারতীয় ইঞ্জিন

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

স্বপ্নপূরণের সন্ধিক্ষণ

চিলাহাটী-হলদিবাড়ী রেলপথে পরীক্ষামূলক ভারতীয় ইঞ্জিন

মোশাররফ হোসেন, নীলফামারী ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০২০

print
চিলাহাটী-হলদিবাড়ী রেলপথে পরীক্ষামূলক ভারতীয় ইঞ্জিন

চিলাহাটী-হলদিবাড়ী রেলপথ সংযোগ স্থাপন শেষে পর এবার চিলাহাটী সীমান্ত ছুঁয়ে পরীক্ষামূলক চলাচল করল ভারতীয় একটি রেলইঞ্জিন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ী সীমান্ত রেলস্টেশন পেরিয়ে ইঞ্জিনটি বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছে। সেখানে ১০ মিনিট অবস্থানের পর পুনরায় ছেড়ে যায় হলদিবাড়ীর উদ্দেশে। পরে ওই সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরীক্ষামূলক রেল চলাচলের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতের উত্তর-পূর্ব রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী জেপি শিং, উপ-প্রধান প্রকৌশলী ভিকেমিনা ও নির্বাহী প্রকৌশলী পিকেজে। এ সময় ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আবদুর রহীম, নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম।

গত মঙ্গলবার বিকালে জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটী সীমান্তের ৭৮২ নম্বর পিলারের কাছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে হলদিবাড়ী-চিলাহাটী রেলপথের সংযোগ স্থাপিত হয়। সে পথ দিয়ে ভারতের অংশে পরীক্ষামূলক রেল চলাচল করে।

৫৫ বছর পর দুই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় রেল ইঞ্জিনের উপস্থিতিতে সীমান্তের উভয় পার্শ্বে ভিড় জমে দুই দেশের উৎসুক মানুষের। তারা দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রেল চলাচল দেখতে। সীমান্তের দুই ধারে দাঁড়িয়ে তারা উপভোগ করলেন স্বপ্নপূরণের সন্ধিক্ষণের দৃশ্য।

জেলার ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের আশরাফুল ইসলাম বলেন, আগে এ পথে ট্রেন চলেছিল। সে ট্রেনে আমরা ভারতের কলকাতা পর্যন্ত ঘুরে এসেছিলাম। এরপর বন্ধ হওয়ার দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ভারতের রেল দেখতে পেলাম।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র মতে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাক-ভারত বিভক্তির পরও এ পথে ট্রেন চালু ছিল। সে সময়ে এ পথে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করত যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্ধ হয় দুই দেশের মধ্যে রেল চলাচল।

পরিত্যক্ত চিলাহাটী-হলদিবাড়ী রেলপথ চালুর উদ্যোগ নেয় দুই দেশের সরকার। এ উদ্যোগে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটী রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্ত হওয়ার পথে। এর আগে ভারত হলদিবাড়ী রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজ সমাপ্ত করলেও তাদের অংশে জিরো পয়েন্টে দেড়শ মিটার অবশিষ্ট ছিল। গত মঙ্গলবার বিকালে অবশিষ্ট অংশের কাজ সমাপ্ত করে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দেয় ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বন্ধ থাকা রেলপথটি চালু করতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বর্তমান সরকার। প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে চিলাহাটী রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ ও দুই দশমিক ৩৬ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটী রেলস্টেশন চত্বরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

চলতি বছরের ২৮ আগস্ট চিলাহাটীর জিরো পয়েন্টে ভারত-বাংলাদেশ সংযোগস্থলে রেলপথের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন রেলপথমন্ত্রী। এসময় তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা ২০২১ সালের ২৬ র্মাচ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর র্পূতি উপলক্ষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি এ পথে রেল চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। করোনা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

চিলাহাটী স্টেশন মাস্টার মো. মোমিন উদ্দিন প্রামানিক দুই দেশের সীমান্তে রেলপথ সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভারতীয় অংশে ওই চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রহীম বলেন, ভারত তাদের অংশে রেলপথ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে পরীক্ষামূলক রেল চালানোর কাজও শেষ করেছে। বাংলাদেশ অংশে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পরীক্ষামূলক রেল চালানো হবে।