নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কে ভোগান্তি

ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ | ১১ কার্তিক ১৪২৭

নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কে ভোগান্তি

নীলফামারী প্রতিনিধি ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০১, ২০২০

print
নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কে ভোগান্তি

ভেঙেচুরে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়ক। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চালক-যাত্রীসহ পথচারীরা। অথচ জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থেমে আছে উন্নয়ন কাজ। দ্বিতীয় দফা সময়ের আর বাকি মাত্র নয় মাস। কাজের বাকি ৫০ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় জমি ছাড়ছেন না না মালিকরা। বাধ্য হয়েই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, জমি অধিগ্রহণের তিনটি অংশের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। তবে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাবনার ত্রুটি সংশোধনে সময় লাগছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সড়ক বিভাগ জানায়, সাড়ে ১৫ কিলোমিটারের নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি ১৮ ফুট থেকে ৪২ ফুট প্রশস্তকরণে ২০১৭ সালে ২২৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় একনেক। দরপত্র গ্রহণ শেষে ২০১৮ সালের ২ আগস্ট এক বছরের সময় নির্ধারণ করে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৮ সালের ২ আগস্ট কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই সড়ক সম্প্রসারণে ৫৪ দশমিক ৬১৫ একর জমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসনকে ওই বছরের জানুয়ারি মাসে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ, বনবিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের সমন্বয়ে সড়কের প্রয়োজনীয় জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণে চারটি অংশে বিভক্ত করে অধিগ্রহণের কাজ শুরু করে।

এরই মধ্যে তিনটি অংশের অধিগ্রহণের টাকা জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেয় তারা। জেলা প্রশাসন একটি অংশের জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দিলেও নানা জটিলতায় আটকে যায় বাকি দুটি অংশে। জানা যায়, জমির দাম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৪৩ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় একনেক। যার মধ্যে ভূমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণ ব্যয় ধরা হয় ৩১৩ কোটি টাকা।

জমি ও স্থাপনার মালিকরা বলছেন, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের অধিগ্রহণ করা জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় তারা তাদের জায়গায় কাজ করতে বাধা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর আগে তারা সড়ক অবরোধ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।

জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী পিলার বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘দুই বছর আগে কাজ শুরু হলে আমাদের দোকানপাট ভেঙে কাজ শুরু করেন। সে থেকে আমরা ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য ঘুরছি। এক বছর আগে ক্ষতিপূরণের টাকার দাবিতে আমরা মানবন্ধন করলে জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল ১৫ দিনের মধ্যে টাকা দেওয়া হবে।

এরপর একাধিকবার আমরা জেলা প্রশাসনে যোগাযোগ করেছি। আড়াই মাস আগে টাকা আসার কথা শুনে আমরা জেলা প্রশাসনে যোগাযোগ করলে বলা হয়েছিল, ‘টাকা দেওয়া হবে, ১৫ দিনের মধ্যে আপনাদের কাছে পিডব্লিউডি, এলএ শাখা, বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ভিাগের লোকজন যাবে। ওই ১৫ দিনের স্থলে দুই মাস পার হলেও কোনো খবর নেই।’

একই বাজারের ব্যবসায়ী সামাদুল আলম (৫৫) বলেন, ‘দুই বছর আগে আমাদের দোকান না ভাঙলে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। সে সময় বলেছিল অল্প সময়ের মধ্যে আপনারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন। দীর্ঘ সময়েও টাকা না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী পরিবার নিয়ে পথে বসেছেন।’

গাড়িচালক ইস্তাম্বুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘জেলা শহর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছে। শেষ না হওয়ায় ভাঙা সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে যানবাহনের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি সময় অপচয় হচ্ছে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের প্রতিনিধি মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জমি মালিকদের বুঝিয়ে তাদের জায়গায় কাজ শুরু করেছিলাম। এখন দীর্ঘ সময়েও ক্ষতিপূরণের দাবিতে তারা কাজে বাধা দিচ্ছেন। ফলে গত জুন মাস থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। এমন সমস্যায় একটি অংশের ঠিকাদার নাভানা বিল্ডার্স চুক্তি বাতিল করে চলে গেছেন। দ্রুত সমাধান না হলে আমাদেরও কাজ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সড়কটিকে চারটি অংশে বিভক্ত করা করা হয়। এরই মধ্যে তিনটি অংশের বিপরীতে জেলা প্রশাসনকে ২৫৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। একটি অংশের প্রাক্কলন এখনো পাইনি। সেটি পেলে তাদের চাহিদামতো টাকা দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাবনায় ত্রুটি থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। একটা সিস্টেমের মধ্য দিয়ে আমাদের কাজ সম্পন্ন করতে হয়, সে অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। ইতিমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেছি। সব পেলে এ বছরেই কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’