তিস্তাগর্ভে তিন গ্রাম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

তিস্তাগর্ভে তিন গ্রাম

নির্মল রায়, গঙ্গাচড়া, রংপুর ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

print
তিস্তাগর্ভে তিন গ্রাম

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ গ্রাম বিলীন হওয়ার পর ইচলী ও জয়রাম ওঝা গ্রামেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ইচলী গ্রামের ওপর দিয়ে তিস্তার নতুন দুটি চ্যানেল সৃষ্টি হওয়ায় এ গ্রাম দুটি ভাঙছে। দুটি গ্রামের প্রায় তিনশত বাড়িঘর, ঈদগা মাঠ, মন্দির ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে।

নদীতে পানি কমতে শুরু করলেও তীর ভাঙছে বলে জানান তিস্তাপারের লোকজন। এদিকে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা গ্রামেও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে গত ৩৬ ঘণ্টার ওই গ্রামের প্রায় ৪০টি ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। ঘরবাড়ি হারা লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল হাদী জানান, চলতি বর্ষার শুরু থেকে অব্যাহত ভাঙনে তিস্তা মূল গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে লক্ষীটারী ইউনিয়নের শেখ হাসিনা সেতুর উত্তরে আরও দুটি চ্যানেলের সৃষ্টি হয়। ফলে নতুন গতিপথ সংলগ্ন এলাকায় দেখা দেয় প্রবল ভাঙন। এতে ভেঙে গেছে শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়ক ও সেতুর মোকা।

এছাড়া ইচলী ঈদগাহ মাঠ ও পূর্ব ইচলী মন্দির ভেঙে গেছে, ঈদগাহ সংলগ্ন এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাটিও যে কোনো সময় তিস্তার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে তিনি বিনবিনা থেকে শংকরদহ পর্যন্ত ৭ কিঃমিটার বেড়িবাঁধ দ্রুতই নির্মাণের দাবি জানান।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু একই দাবি জানিয়ে বলেন, ভাঙনে তার ইউনিয়নের বিনবিনা গ্রামের ৪০টি বাড়ি ভেঙে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলীমা বেগম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। দ্রতই তাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।