কর্মচঞ্চল মধ্যপাড়া পাথরখনি

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

কর্মচঞ্চল মধ্যপাড়া পাথরখনি

মেহেদী হাছান উজ্জ্বল, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

print
কর্মচঞ্চল মধ্যপাড়া পাথরখনি

আবারো কর্মচঞ্চলতায় ফিরেছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনি। শ্রমিক, পাথর-ব্যবসায়ী আর পরিবহন শ্রমিকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভ থেকে উৎপাদনশীল পাথরখনি এলাকা। করোনার কারণে ২৬ মার্চ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার পর গত বুধবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে খনি থেকে পুরোদমে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে খনিটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-টেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। তিন শিফটে চলছে হরদম পাথর উত্তোলন।

গতকাল বৃহস্পতিবার খনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খনির প্রধান ফটকের সামনে সারি সারি পাথরবাহী ট্রাক। আছেন পাথরের ব্যবস্যায়ী, পাথর লোড-আনলোড শ্রমিক। তাদের ঘিরে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে আশেপাশের চায়ের দোকানও। খনি সূত্রে জানা গেছে, খনিটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করছে। খনিটির উৎপাদনে ইতিহাসে এটিকে ‘নতুন রেকর্ড’ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিটিসি’র সঙ্গে চুক্তির পরই ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এই পাথর খনিটি প্রথমবারের মত লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। জানা যায়, পাথর ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে ভূতত্ত্ববিদ এবিএম কামরুজ্জামানের দিক নির্দেশনায় মাসিক এক লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে করোনাকালীন সময়ের কড়া নিষেধাজ্ঞা শেষে গত বুধবার থেকে তিন শিফটে পুরোদমে পাথর উত্তোলন ও খনির ভূগর্ভের উন্নয়ন কাজ শুরু করেছে।

জিটিসির পরিচালক জাবেদ সিদ্দিক বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে উত্তোলন শুরু হয়েছে পাথর।’

তিনি বলেন, ‘চুক্তিপূরণ ও দেশের স্বার্থে মধ্যপাড়া খনিতে সর্বোচ্চ পাথর উত্তোলনে জিটিসি অঙ্গীকারবদ্ধ। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি পাথর উত্তোলনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।’ আগামীতেও একইভাবে জিটিসি কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভূতত্ত্ববিদ এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১-কে সামনে রেখে, উন্নত ও টেকসই উন্নয়নে সরকারের মেগা প্রকল্পে পাথর সরবরাহের জন্য খনিটিতে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এজন্য খনিটিতে দ্বিতীয় কূপ খনন জরুরি। দ্বিতীয় কূপ খননের জন্য ইতোমধ্যে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুমতি পেলেই দ্বিতীয় কূপের কাজ শুরু হবে। তখন এই অঞ্চল আরও কর্মচঞ্চলতায় মুখরিত হবে।’

এই ভূতত্ত্ববিদ আরও জানান, দ্বিতীয় কূপটি চালু করা হলে প্রতিদিন এই খনি থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন সম্ভব হবে। এতে করে দেশের মোট পাথরের চাহিদার অর্ধেক পাথর এই খনি থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।