স্বপ্নের বাড়িতে খুশির ঢেউ

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

স্বপ্নের বাড়িতে খুশির ঢেউ

সাইফুল ইসলাম, রংপুর ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

print
স্বপ্নের বাড়িতে খুশির ঢেউ


সুন্দর ডিজাইন, রঙিন টিন ও রঙ করা দেয়াল। রংপুরের ৩৪৫টি পরিবারকে নজরকাড়া এসব বাড়ি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বপ্নের এই বাড়ি পেয়ে খুশি ভূমিহীনরা। এরই একটি পেয়েছেন তারাগঞ্জের নছিমন বেওয়া। ভিক্ষা করেই চলে তার জীবন। স্বামীহারা নছিমন এর আগে তার বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে নজরুল ইসলামকে (৪২) সঙ্গে নিয়ে থাকতেন ঝুপড়িতে। ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের পাকা ঘর পেয়ে তিনি বলেন, ‘মুই বেজায় খুশি।’ আর আনন্দে আটখানা মিঠাপুকুর ফুলচকি গ্রামের ভিক্ষুক রশিদা বেগম বলেন, ‘আজ শান্তিতে ঘুম যাবার পাইছোল। শেখের বেটিকে ধন্যবাদ দেও। হামার মতন নিঃস্ব মানুষগুলোর পাশত দাঁড়াবার জন্য। ঘর পাইতে কাকো কোনো টাকা-পয়সা দেওয়া নাগেনি। অনেকে হামাক সাহায্য দিছে, কিন্তু টাকা-পয়সা ছাড়া ঘর পামো এমন আশা কখনও করিনি। আল্লাহ হামার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দীর্ঘজীবী করুক।’ নছিমন-রশিদার মতো ঘর পেয়ে অন্যরাও ছিলেন হাসিতে উজ্জ্বল।

মিঠাপুকুর উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সব ইউনিয়ন মিলিয়ে ৪১টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। রংপুর ডিআরও আক্তারুজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের ৩৪৫টি পাকা ঘর তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৫৩টি, তারাগঞ্জে ৪৭টি, বদরগঞ্জে ৪৩টি, রংপুর সদরে ৩৪টি, পীরগঞ্জে ৪২টি, কাউনিয়ায় ৪১টি, মিঠাপুকুরে ৪১টি, পীরগাছায় ৪৪টি। এতে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৭০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, বিভাগের ক্ষেত্রে রংপুরের বিভাগীয় মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব ভুঁঞা এবং জেলার ক্ষেত্রে রংপুর জেলা প্রশাসক মো. আসিফ আহসানের তত্ত্বাবধানে এই ঘর নির্মাণের তদারকিতে ছিলেন স্থানীয় সরকার পরিচালক, উপ-ভূমিসংস্কার কমিশনার এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক)। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এসব ঘর হস্তান্তরের পর ভূমিহীনদের মুখে হাসি দেখতে পেয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘ভূমিহীনদের খুশিতে আমরাও খুশি।’

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান খোলা কাগজকে বলেন, ‘জেলার অসচ্ছল, দুস্থ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪৫টি আধাপাকা বাড়ি তৈরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

এই কাজের অংশীদার হতে আমরা খুশি।’ তিনি জানান, রংপুর জেলায় ৩৪৫টি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল্য। পরবর্তীতে আরও পাকা বাড়ি তৈরি করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।