দেড় লাখ গ্রাহকের চার কোটি টাকা কর্তন

ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ | ৯ কার্তিক ১৪২৭

দেড় লাখ গ্রাহকের চার কোটি টাকা কর্তন

টি. এম. মামুন, বগুড়া ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

print
দেড় লাখ গ্রাহকের চার কোটি টাকা কর্তন

বগুড়ায় অগ্রণী ব্যাংকের ৩০টি শাখায় রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দেখিয়ে প্রায় দেড় লাখ গ্রাহকের হিসাব নম্বর (অ্যাকাউন্ট) থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা কেটে নেওয়ার জোরাল অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করলেও যথাযথ ব্যবস্থা দ্রুত না নেওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড (পত্র নম্বর সিএডি/৫৩ তারিখ-১১/০৬/২০২০)-এর এক নির্দেশনা মোতাবেক পৃষ্ঠা নম্বর ৩ এর ৭.৩ অনুচ্ছেদের আলোকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ষান্মাসিকে গড় স্থিতির ক্ষেত্রে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ফি আদায় করা যাবে না। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে শুধু জেলা পর্যায়ে ব্যাংকের একজন মাত্র কর্মকর্তার ব্যক্তি সাফল্য দেখানোর লক্ষ্যে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বগুড়ার বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের রাখা টাকা থেকে ইচ্ছেমতো কেটে নেওয়া হয়েছে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের মেইনটেনেন্স ফি আদায় সংক্রান্ত বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

জেলার অগ্রণী ব্যাংক পোড়াদহ শাখা থেকে জানা গেছে, অ্যাকাউন্টে যে গ্রাহকের ৩,৬, ১৮ ও ২৩ টাকা ছিল, তাদেরও সম্পূর্ণ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। যা করোনা পরিস্থিতিতে গৃহীত ব্যাংক নীতিরও চরম লঙ্ঘন। এছাড়া ওই শাখায় একজন গ্রাহকের সর্বোচ্চ ২১৫ টাকা পর্যন্ত কর্তন দেখানো হয়েছে। গ্রাহকদের কাছে একটাই প্রশ্ন, টাকাগুলো যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে কেটে নেওয়া হতো, তাহলে সেটা মেনে নেওয়া যেতো। কিন্তু সেটা না হয়ে স্থানীয়ভাবে কেন কর্তন করা হলো, ঘুরেফিরে সেই প্রশ্নে অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড পোড়াদহ বগুড়া শাখার ব্যাংকের ৫ হাজার ৫০০ টি হিসাব নম্বরে এ কাজ করা হয়েছে। জেলায় অন্য এই ব্যাংকের ২৯টি শাখার দেড় প্রায় লক্ষ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন টাকা কেটে নেওয়া হলে তার মোট পরিমাণ হয় ৪ কোটি টাকারও বেশি। যা ব্যাংকের নেতৃস্থানীয় ও অসৎ কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে ঘটানো হয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের দুইজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছাড়া স্থানীয়ভবে টাকা কর্তন করার কোনো নিয়ম নেই। যা করা হয়েছে, তার সম্পূণই প্রতারণামূলক এবং অন্যায়। কাজটি করা হয়েছে র্ঊ্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সাফল্য হিসেবে ব্যাংকের লাভ দেখানোর জন্য।

অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় কর্মরত ম্যানেজারসহ দুই কর্মকর্তা জানান, কমবেশি সব ব্যাংকেই গ্রাহকদের কাছ থেকে মেইনটেনেন্স ফি এর টাকা কেটে নেওয়া হয়। এখানে কতিপয় কর্মকর্তার অভ্যন্তরীণ ঝগড়া বিবাদের জেরে টাকা কর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এটা বড় রকমের কিছু নয়। তাছাড়া বিষয়টি যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ না পায় সেজন্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছেন স্থানীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

একটি সূত্র দাবি করেছে, গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকাও উত্তোলন করা হয়েছে ব্যাংকের একটি খাত থেকে। যে কারণে গ্রাহক হয়রানিসহ গ্রাহকের হিসেব নম্বর থেকে টাকা কর্তনের বিষয়ে তথ্য জানার পরও অনেকেই সংবাদ প্রকাশ করেননি। অপর একটি সূত্র দাবি করে, সাংবাদিক ম্যানেজের জন্য লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে ব্যাংকের জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার।

অগ্রণী ব্যাংক বগুড়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক শেখ আকরাম হোসেন গ্রাহকের হিসেব নম্বর থেকে টাকা কর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে জাানান, এটা ভুলবশত হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।