উন্নয়নবঞ্চিত কাউনিয়া

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

উন্নয়নবঞ্চিত কাউনিয়া

মোস্তাক আহমদ, কাউনিয়া (রংপুর) ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

print
উন্নয়নবঞ্চিত কাউনিয়া

রংপুর বিভাগের উন্নয়নবঞ্চিত একটি উপজেলার নাম কাউনিয়া। কাউনিয়ার সাধারণ মানুষ উন্নয়নের আশায় বুকবেঁধে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশিকে। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এতে সাধারণ মানুষের বুক ভরে যায়। স্বপ্ন দেখতে থাকে এবার কাউনিয়ায় প্রতিটি এলাকায় সমহারে উন্নয়ন হবে। কিন্তু সে আশা গুড়েবালি। সংবিধান স্বীকৃত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, বিনোদন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীভাঙন রোধে অন্য যে কোনো উপজেলার চেয়ে পিছিয়ে কাউনিয়া।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এলাকার উন্নয়নসহ শিক্ষা উন্নয়নে তিনি কখনই শিক্ষক সমাজ, সুধীজন, সাংবাদিকদের নিয়ে বসেননি মন্ত্রী। স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা। পদাধিকার বলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি হলেও আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কোনো সভা করেননি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও একটি চলে না ১৮ বছর। অন্যটি প্রায় ৬ বছর থেকে।

ইসিজি মেশিন, রক্ত সংরক্ষণের রিফ্রিজেটর, ডিসটিলওয়াটার তৈরির মেশিনগুলো অচল দীর্ঘদিন থেকে। সাধারণ রোগের পরীক্ষাও এখানে হয় না। তিনটি আধুনিক ওটি থাকলেও সমন্বয়হীনতার কারণে সেগুলো অচল। সার্জারির ডাক্তার থাকলে এনেসথেসিয়া ডাক্তার থাকেন না। করোনায় রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হলেও তিনি তার খবর রাখেন না।

জমি আছে ঘর নেই, এমনকি ভূমিহীনদের বাড়ি করে দেওয়ার সরকারপ্রধান যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, সেখানেও নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তিনি খোঁজখবর রাখেন না। বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার যুবকরা বিপথগামী হয়ে নেশার জগতে পা বাড়াচ্ছে। খেলাধুলা নেই বললেই চলে। খেলার মাঠ উন্নয়নের কোনো পদক্ষেপ নেই।

শিশুরা বিনোদনের কোনো স্থান না পেয়ে শিক্ষাবিমুখ হচ্ছে। কাউনিয়া মেডিকেলে একটি শিশু পার্ক তৈরি করা হলেও এখন তার চিহ্ন পর্যন্ত নেই। তিস্তা সড়ক সেতু এলাকায় একটি বিনোদন কেন্দ্র তৈরির কথা শোনা গেলেও দৃশ্যত তা চোখে পড়ছে না। ধুম নদীকে পর্যটনের আওতায় আনার কথা শোনা গেলেও কবে হবে কেউ জানে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা। রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের বেহাল দশায় দুর্ঘটনা নিত্যদিনের হলেও এসবের খবর তিনি রাখেন না। এলাকার মানুষ উন্নয়নের মহাসড়কে দেখছে পিচঢালা পথ ভেঙে করা হচ্ছে হেরিং বন্ড।

গ্রামীণ রাস্তা কিছু পাকা করা হলেও প্রকৌশল বিভাগের দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজ করায় ৬ মাস না যেতেই রাস্তার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী নিজে নির্বাচনকালীন বলেছিলেন কালির হাট থেকে মধুপুর পর্যন্ত রাস্তা পাকা করবেন। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে হয়তো ভুলে গেছেন। আজো ওই এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে যাতায়াত করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাউনিয়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এসে জনসভা করেছিলেন, সেই স্টেশনে আজ পর্যন্ত আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। স্টেশনের চাল দিয়ে পানি পড়ে, ওয়েটিং রুমে গন্ধে বসা যায় না। বিশুদ্ধ পানির অভাব।

প্রতি বছর নদীভাঙনে শত শত হেক্টর ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর বিলীন হলেও ভাঙন রোধে এলাকাবাসী কত মানববন্ধন স্মারকলিপি তাকে প্রদান করেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। মন্ত্রীরা এসে পাকা বাঁধ নির্মাণের আশ্বসের বাণী শুনিয়ে গেছেন। কিন্তু তার কোনো কাজ হয়নি। তিস্তা নদী খননের কথা শোনা গেলেও কবে হবে তা কেউ জানে না।

বিভিন্ন চরাঞ্চলে কৃষকের উৎপাদিত কুমড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে তারাও হতাশ। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের কোনো পদক্ষেপ নেই। কর্মসংস্থানের অভাবে দিন দিন শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কল-কারখানা তৈরির কোনো উদ্যোগ নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না হলে যুবসমাজ বিপথগামী হয়ে পড়বে। সমাজে সৃষ্টি হবে নানা সমস্যা।

করোনাকালীন সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করলেও এখানে কেউ পায়নি। ব্যবসায়ীরা এখন হতাশাগ্রস্ত। সবমিলিয়ে সাধারণ মানুষ বলছেন, উন্নয়নবঞ্চিত একটি উপজেলার নাম কাউনিয়া। এ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি দেওয়া দরকার।