কুড়িগ্রামে ফের বন্যা ধান পানির নিচে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৩ কার্তিক ১৪২৭

কুড়িগ্রামে ফের বন্যা ধান পানির নিচে

জাহিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

print
কুড়িগ্রামে ফের বন্যা ধান পানির নিচে

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি। বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে ধরলার তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়িতে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চল ও নি¤œাঞ্চলের ১৮শ হেক্টর আমন ক্ষেতসহ ২১৪ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি দ্রুত নেমে না গেলে ব্যাপক ফসলহানি হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে।

সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, পর পর তিন দফা বন্যায় আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। 

ধারদেনা করে অন্য এলাকা থেকে চারা কিনে এনে দুই বিভাগ জমিতে লাগিয়েছিলাম। সেই আমন খেতও গত দুদিন আগে পানিতে তলিয়ে গেছে। দু-চার দিনের মধ্যে পানি না নামলে আমন খেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের আবুল হোসেন বলেন, আমরা কৃষক মানুষ। ধান আবাদ না হলে খাবার উপায় নেই।
দীর্ঘ বন্যায় দুই দফা আমন খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আবারও চারা লাগিয়েছি। কিন্তু সেই জমিতে এখন আমন খেতের ওপর ৪ থেকে ৫ ফুট পানি। এবারও খেত নষ্ট হলে বাঁচার উপায় থাকবে না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. শামসুদ্দিন মিয়া বলেন, পর পর তিন দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জেলার কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়েছিল। নতুন করে নিমজ্জিত হয়ে পড়া আমন খেত থেকে দ্রুত পানি নেমে না গেলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। জিও ব্যাগ ও বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টার রিপোর্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। কিছু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।