নীলফামারী পৌরসভার ব্যস্ততা

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

নীলফামারী পৌরসভার ব্যস্ততা

মোশাররফ হোসেন, নীলফামারী
🕐 ১২:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ০৫, ২০২০

নীলফামারী পৌরসভার ব্যস্ততা

করোনা প্রার্দুভাবের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে নীলফামারী পৌরসভা। ইতোমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার উৎপত্তি স্থলগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শুরু করেছেন পৌরকর্মীরা। সড়কে জীবাণুনাশক ছিটানো, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো এবং ড্রেন পরিষ্কার, মশক নিধন, ডাস্টবিন থেকে আবর্জনা অপসারণের কাজেও তাদের গতি বেড়েছে।

শহরের প্রগতি পাড়া, কবরস্থান মোড়, কলেজ পাড়া, কুমড়া খাওয়ার মোড় ঘুরে দেখা গেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌরকর্মীদের লিফলেট বিতরণ ও জীবাণুনাশক ছিটানোর দৃশ্য। 

শহরের কুমড়া খাওয়ার মোড় এলাকার লুৎফর রহমান বলেন, আমাদের এলাকার ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় কিন্তু স্থানীয় মানুষ এটির সঠিক ব্যবহার করছেন না। ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলেন। করোনাকাল থেকে বাড়িতে এসে পৌরসভার কর্মীরা জীবাণুনাশক স্প্রে করে গেছেন। এবার ডেঙ্গু থেকে সচেতনতার জন্য দিয়ে যাচ্ছেন সচেতনতামূলক লিফলেট।

পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আবু খায়ের মোহাম্মদ মরতুজ আলী বলেন, গত বছর কিটতত্ত্ববিদ এনে আমরা শহরের বিভিন্ন এলাকার বাড়িতে এডিস মশার উৎপত্তিস্থলগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি কিন্তু এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে পৌরসভার সচেতনতামূলক কার্যক্রম পৌরবাসী মেনে চলায় আমরা নিরাপদ থেকেছি। এবারো আশা করছি ধারাবাহিকতা রক্ষা করলে ডেঙ্গুর উৎপত্তি হবে না।

পৌরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের পরিদর্শক আব্বাস আলী বলেন, আমরা নিয়ম করে ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখি। এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও করা হয়। করোনা শুরুর আগে থেকে এবং ডেঙ্গুর মৌসুম আসার প্রাক্কালে বিশেষ নজর দিয়েছি ড্রেন ও ডাস্টবিন থেকে আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, পৌর এলাকায় ছোট বড় মিলে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ড্রেন এবং প্রায় ৫’শ ডাস্টবিন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব ড্রেন ও ডাস্টবিন পরিষ্কার করা হয়।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল আলম ডাবলু বলেন, পৌরসভা তো কাজ করেই চলেছে। ড্রেন, রাস্তাঘাট, ডাস্টবিন থেকে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছে। বাসায় গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শুধু পৌরসভার ওপর ভর করে থাকলে হবে না, নাগরিক হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। করোনা কালের মধ্যে ডেঙ্গুর মৌসুম আসছে এক্ষেত্রে বাসা বাড়ি যাতে আমরা পরিষ্কার রাখি। বিশেষ করে ফুলের টব, টায়ার, ফ্রিজ, কোন পরিত্যক্ত পাত্রে যেন পানি জমা না থাকে এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ড্রেনে কিন্তু এডিস মশার উৎপত্তি হয় না। পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্মায়। এজন্য নিজ নিজ বাড়িতে যেসব স্থানে পানি জমা হয়ে থাকে সেসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে আমাদের। এজন্য কিন্তু সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিরামহীন সেবা দিয়ে যাচ্ছে পৌরসভার কর্মীরা। করোনা ক্রান্তিকালেও ক্লান্তিহীন সেবা দিয়েছে আমাদের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। পৌরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে হলে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে সবাইকে। যাতে আমরা সবাই ভালো থাকি।

 

 
Electronic Paper


SA Engineering