স্পিরিট ও মদ পানে স্বামী স্ত্রীসহ ২১ জনের মৃত্যু

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

স্পিরিট ও মদ পানে স্বামী স্ত্রীসহ ২১ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

print
স্পিরিট ও মদ পানে স্বামী স্ত্রীসহ ২১ জনের মৃত্যু

ঈদ উদযাপন করতে গিয়ে উত্তরের জনপদ দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়ায় বিষাক্ত স্পিরিট ও মদ পানে স্বামী-স্ত্রীসহ ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ২৫ মে ঈদের দিন রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ২৮ মে পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অনেকে দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন এবং আরো অনেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা গেছে। আমাদের দিনাজপুরের বিরামপুর প্রতিনিধি জানান, বিরামপুরে বিষাক্ত স্পিরিট (অ্যালকোহল) পানে স্বামী-স্ত্রীসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

এদিকে এ ঘটনায় এক হোমিও চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, বিরামপুর পৌর এলাকার মাহমুদপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আ. মতিন (২২), সুলতান আলীর ছেলে মহসীন আলী (২৭) ও তোজাম্মেলের ছেলে আজিজুল (৩০), হঠাৎপাড়া মহল্লার শফিকুল (৫৫), শফিকুলের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা, (৩৫) মাহমুদপুর গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে সোহেল রানা (৩০) আবুল হোসেনের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪২), আবদুল খালেকের ছেলে আব্দুল আলীম (৪০), ইসলামপাড়ার তাপস বাক্সির ছেলে অমৃত্যু বাক্সি (২৪) ও কাজী পাড়া মহল্লার ইসরাফিলের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪২) গত মঙ্গলবার নেশা করার উদ্দেশ্যে স্পিরিট (অ্যালকোহল) পান করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা অসুস্থবোধ করলে গত বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে একে একে ১০ জনের মৃত্যু ঘটে। স্পিরিট পানকারী আরও ছয়জন তাদের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে খবর পেয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল, সার্কেল এএসপি মিথুন সরকার ও বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশগুলো থানা হেফাজতে নিয়েছেন। পৌর মেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল জানান, বিরামপুর শহরের অনেক হোমিও দোকানে অবাধে স্পিরিট বিক্রি হয়। এই স্পিরিট পানেই তাদের মৃত্যু ঘটেছে। ওসি মনিরুজ্জামান জানান, কী ধরনের স্পিরিট তারা পান করেছিল তা পরীক্ষার জন্য লাশ দিনাজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামুদপুর গ্রামের হোমিও চিকিৎসক আব্দুল মান্নানকে আটক করা হয়েছে।

আমাদের রংপুর ব্যুরো জানান, রংপুরে পৃথক মদ ও স্পিরিট পানের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মদপানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত সাতজন। মদপান করে ঈদ উদযাপন করতে গিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের শানেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- ওই ইউনিয়নের খোলাহাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), রায়তি সাদুল্যাপুর গ্রামের দুলা মিয়া (৫০), বড় পাহাড়পুর গ্রামের জায়দুল হক (৩৫), হরিরাম সাহাপুর গ্রামের লুলু মিয়া (৩০), বড় পাহাড়পুর গ্রামের সেলিম মিয়া (৫০) এবং মিঠাপুকুর উপজেলার বা?জিতপুর গ্রামের চন্দন কুমার (৩০)। প্রায়ই তারা শানেরহাট বাজারে মদের আসর বসাতেন। মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে তাদের দাফন করেন স্বজনরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি আমরা। মৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর ঘটনা উদঘাটন হবে।

অপরদিকে বিষাক্ত স্পিরিট পানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন- বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নুর ইসলাম (৩০), রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের সরোয়ার হোসেন (৩১) ও মোস্তফা কামাল (৩০)। এদের মধ্যে গত মঙ্গলবার সকালে সরোয়ার ও মোস্তফা কামাল এবং গত বুধবার (২৭ মে) সকালে নুর ইসলাম মারা যান। রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, নিহত দুইজনের বাড়ি চন্দনপাট ইউনিয়নের খইল্লাপাড়া ও পুটিমারী এলাকায় এবং একজনের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে।

এছাড়া আমাদের বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিষাক্ত মদপানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ^রঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার ঈশ^রঘাট গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে অটোরিকশা চালক আব্দুল আলিম (৩০) ও একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে স্থানীয় কান্তনগর বাজারের মাংস ব্যবসায়ী আল-আমিন (২৮)। উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, বুধবার সন্ধ্যার দিকে গ্রামের রাস্তায় বসে নেশা জাতীয় তরল পদার্থ সেবন করেন আব্দুল আলিম ও আল-আমিন।

এরপর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে আল আমিন মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে মারা যান। আর অসুস্থ আব্দুল আলিমকে তার স্বজনরা প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ রাতের দিকে আব্দুল আলিম মারা যান। ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, বিষাক্ত মদপানে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। আরেকজনের মৃত্যুর বিষয়টি খাতিয়ে দেখা হচ্ছে।