কিস্তি বন্ধ, হচ্ছে না বেতন

ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

কিস্তি বন্ধ, হচ্ছে না বেতন

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০

print
কিস্তি বন্ধ, হচ্ছে না বেতন

অঘোষিত লকডাউনের কারণে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া ঋণের কিস্তি আদায় করতে পারছেন না কর্মচারীরা। এ কারণে তাদের বেতনও বন্ধ রয়েছে। যদিও ঋণের কিস্তি আদায় না হলে তাদের বেতন দেওয়ার বিধান সংস্থাটির নীতিমালায় নেই। সব মিলিয়ে এখন আয় থেকে দায় প্রথার বেড়াজালে পড়ে গেছেন বিআরডিবির ১৫টি প্রকল্পে কর্মরত প্রায় আট হাজার কর্মচারী।

প্রকল্পের কর্মচারীরা জানান, ২০০৮ সালে বিআরডিবির ৪২তম বোর্ড সভায় এবং ২০১০ সালে ৪৪তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ইউসিসিএর কর্মচারীদের রাজস্বভুক্ত করা হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাত সদস্যের কমিটি হয়। কমিটি ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ইউসিসিএ কর্মচারীদের রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার আগ পর্যন্ত বিআরডিবিকে ৭০ ভাগ বেতন সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর তিন বছর ইউসিসিএর কর্মচারীদের ৫০ ভাগ বেতন-ভাতা দিয়েছে বিআরডিবি। পরে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিআরডিবি ইউসিসিএ কর্মচারীদের রাজস্বভুক্তির কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সমিতির নিজস্ব আয় দিয়ে তাদের বেতন হচ্ছে না।

ফুলছড়ি উপজেলার বিআরডিবির ইউসিসিএ পরিদর্শক রকিবুল ইসলাম বলেন, ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। বেতন-ভাতা পাচ্ছি না দীর্ঘ দিন ধরে। করোনার কারণে মাঠে যেতে পারছি না। লকডাউনের মধ্যে আছি আমরা। বেতন চাইতে গেলে আরডিও স্যার বলে আপনাদের আদায় নেই, কিভাবে বেতন দিব। আয় থেকে দায় প্রথার বেড়াজালে পড়ে ঋণের কিস্তি ও সার্ভিস চার্জ আদায় করতে না পারায় সামান্যতম বেতনটুটু নিতে পারছি না।

একই অফিসের পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, যেখানে এনজিও প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায় বন্ধ রেখেছে এবং ঋণ গ্রহীতাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। সেখানে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কাছে আমরা কিভাবে ঋণের কিস্তি চাইতে পারি। তাই আদায় নেই, বেতনও পাচ্ছি না। সরকার যদি বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে আমাদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা করতো তাহলে ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোনো রকম খেয়ে পরে বাঁচতে পারতাম।

ফুলছড়ি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার সোহেল রানা বলেন, আমাদের বেতন দেয়ার আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই, কিন্তু নীতিমালার কাছে আমরা দায়বদ্ধ। তাই আদায় না করতে পারলে তো কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার বিধান নেই।