শাখা যমুনা নদীতে বালু উত্তোলন অব্যাহত

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শাখা যমুনা নদীতে বালু উত্তোলন অব্যাহত

দিনাজপুর প্রতিনিধি ১:২১ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

print
শাখা যমুনা নদীতে বালু উত্তোলন অব্যাহত

দিনাজপুরের বিরামপুরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে শাখা যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদী ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে নদীর তীরে থাকা ফসলি জমি ও ভিটেমাটি বিলীনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া বালু বোঝাই ট্রাক্টর গাড়ি অবাধে চলাচল করায় ইতোমধ্যে কাঁচা রাস্তা ও মহাসড়কের বেশকিছু এলাকা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় কয়েকটি স্থানে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও যেন দেখার কেউ নেই।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও বন্ধের কোনও উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। তাছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী লিখিতভাবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরও বালু উত্তোলন বন্ধে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

ওই এলাকার কয়েকজন বলেন, বালুদস্যুরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বাধা দেয়ার সাহস করে না। এরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর গভীর থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামসহ শত শত বিঘা আবাদি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় আজিজার রহমান বলেন, শাখা যমুনা নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলার সঙ্গে রুবেল জড়িত। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন এসব বালু উত্তোলনের পর বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান (আবু) বলেন, শাখা যমুনা নদী থেকে প্রতিদিন এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে আমার নিজের আবাদি জমি নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে। আরও বেশকিছু জমি নদীতে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংশ্লিষ্ট ৪ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোজাফফর রহমান বলেন, এই এলাকায় এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে অনেক জমি নদীর ভিতরে চলে গেছে।

এলাকার লোকজন অনেক বার নিষেধ করার পরেও তারা বালু উত্তোলন করে। এই বিষয়ে অনেকেই লিখিত অভিযোগ করেছে কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। বালু উত্তোলনকারীরা দলীয় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বাধা দিতে পারছে না। এছাড়া যে ট্রাক্টরগুলোতে করে বালু বহন করা হচ্ছে সেগুলো গাড়ির ড্রাইভারদের অধিকাংশের লাইসেন্স নেই। ফলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বালু উত্তোলনকারী রুবেল জানান, আমি বালু তোলার দায়িত্বে আছি। ফোনে সব কথা বলা যাবে না অফিসে আসেন বিস্তারিত কথা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, সাং কৃষ্টচাঁদপুর এলাকার বালু ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের নিয়ম নেই। ওই এলাকার জমির মালিকের কাছ থেকে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যদি এখনো সেখানে বালু উত্তোলন হয়ে থাকে তাহলে এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দু-এক দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।