ঘর পেয়ে খুশী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ঘর পেয়ে খুশী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

বিপ্লব হোসেন অপু, তারাগঞ্জ (রংপুর) ১:০২ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

print
ঘর পেয়ে খুশী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থ বছরে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পাটনিপাড়া গ্রামের ২৫টি পরিবারের মাঝে বসতঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত সোমবার সকালে কুর্শা ইউনিয়নের পাটনিপাড়া গ্রামের শুরুতে সুধা চন্দ্রকে বসতঘর হস্তান্তর করেন রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। 

জানা গেছে, উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য তাদের পরিবারের মাঝে মোট ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে ২৫টি বসতবাড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মাঝে বসতঘর হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারের মাঝে ২৫টি বসতঘর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের জীবন মান উন্নয়নে সরকারের এই প্রচেষ্ঠাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুবিধাভুগিরা।

ঘর পেয়ে খুশিতে সুধা চন্দ্র বলেন, প্রায় দেড়শ বছর থেকে আমাদের আদি পুরুষ থেকে বাঁশ শিল্পের ওপর জীবিকা নির্ভর করছে। আমাদের দৈনন্দিন পরিবারের আয় ৩শ থেকে ৪শ টাকা। যা দিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়।

বিনদ বিহারী দাস বলেন, আমরা পরিবারের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয়। নিম্ন আয়ের জীবন যাপনে একমাত্র বাঁশ শিল্পেই আমাদের ভরসা। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে আমাদেরকে বসতঘর দেওয়ায় আমরা খুব খুশী হয়েছি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন বলেন, আমাদের উপজেলায় বাঁশ শিল্প কুঠির শিল্প হস্তশিল্প মৃৎ শিল্পরা সারা দেশের ন্যায় টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকারি সুযোগ সুবিধাসহ তাদের জিনিসপত্র ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রাচীনকালে এসব জিনিস পত্রই ছিল আমাদের জীবন মানের একমাত্র ভরসা।

আজ তাদের সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে আমাদেরকে তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই তাদের জীবন মান শিক্ষার হার ও পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন সম্ভব হবে।