ফুলবাড়ীতে বিপাকে ইজারাদাররা

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ফুলবাড়ীতে বিপাকে ইজারাদাররা

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ১২:৫০ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

print
ফুলবাড়ীতে বিপাকে ইজারাদাররা

করোনা পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ১৪টি হাটবাজার সরকারি নির্দেশনায় গত ২৩ মার্চ থেকে (খাদ্য সামগ্রী ও ঔষধের দোকান ছাড়া) সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। টোল আদায় করতে না পেরে চরম লোকসানের মধ্যে পড়েছেন ইজারাদাররা। বিশেষ করে যেসব হাটে পশু বেচা-কেনা হয় সেসব হাটের ইজারা মূল্য বেশি হওয়ায় ইজারাদারদের লোকসানের পরমিান আরও বেশি। এ অবস্থায় ইজারামূল্য পরিশোধের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করে নোটিস দেওয়া এবং নোটিস প্রদানের সাতদিনের মধ্যে মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হলে দাখিলকৃত বিডি বাজেয়াপ্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আলটিমেটামে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার সকল হাটবাজারের ইজারাদাররা।

জানা গেছে, গত ১৪২৬ বাংলা সালের চৈত্র মাসে দরপত্রের মাধ্যমে উপজেলার হাটবাজারগুলো ১৪২৭ সালের জন্য ইজারা গ্রহণ করেন ইজারাদাররা। ওই বছরের ০৯ই চৈত্র ২৩ মার্চ ২০২০ইং করোনা ভাইরাসের কারনে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক জেলার সকল হাট-বাজার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন। ১৪২৭ বঙ্গাব্দ না পরতেই হাটবাজার বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েন ইজারাদাররা। তার উপর ২৩ মার্চ ২০২০ উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বাক্ষরিত নোটিসে সাতদিনের মধ্যে ইজারামুল্য পরিশোধ চাপ প্রয়োগ করা হয়। অন্যথায় বিডি বাজেয়াপ্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। এতে বিপাকে পড়েন ইজারাদাররা। 

উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুরহাট হিসাবে পরিচিত খড়িবাড়ী হাটের ইজারাদার নুর ইসলাম শেখ জানান, দেশের অন্যতম বড় এই পশুর হাটে প্রতিহাটে এক/ দেড় হাজার গরু কেনা বেচা হয়। এবছর ভ্যাটসহ হাটের ইজারা মূল্য প্রায় ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ১৫৬ টাকা। হাট ইজারা নেয়ার পরেই করোনাভাইরাসের জন্য সকল হাটবাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনিতে হাট বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহের দুই হাটে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে, তার উপর ইজারা মূল্য পরিশোধে প্রশাসনের তাগাদা। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

উপজেলার অপর দিকে গরুর হাট বালারহাটের ইজারাদার হাশেম আলী বলেন, আমরা ইজারামূল্য পরিশোধে বাধ্য তবে যে দীর্ঘ সময় হাটবাজার বন্ধ থাকলো এবং আগামীতে যতদিন বন্ধ থাকবে তার লোকসান পুষিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। নইলে আমাদেরকে পথে বসতে হবে।

ইউএনও মাছুমা আরেফিন জানান, সরকারি নির্দেশে করনোভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা হাটবাজারের ইজারামূল্য পরিশোধের সময়সীমা আগামী ৩১ মে ২০২০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা আসেনি। সে অনুযায়ী সব ইজারাদারকে মূল্য পরিশোধের জন্য পুণরায় চিঠি দেয়া হয়েছে।