ডোমারে কৃষকের হাসি কেড়ে নিল নেক ব্লাস্ট রোগ

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ডোমারে কৃষকের হাসি কেড়ে নিল নেক ব্লাস্ট রোগ

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি ৩:৪১ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

print
ডোমারে কৃষকের হাসি কেড়ে নিল নেক ব্লাস্ট রোগ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে। তবে সেই হাসি আবারো ম্লান করে দিয়েছে ধানের নেক ব্লাস্ট রোগ। এ রোগে কোন কৃষককের আংশিক আবার কারো কারো ক্ষেতের বড় অংশের ধান চিটা হয়ে গেছে।

কৃষকরা কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে না পাওয়ার অভিযোগ করলেও কৃষি দপ্তর কৃষকদের সকল ধরনের সহযোগিতা করেছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিছুজ্জামান জানান, করোনা সময়ও আমরা কৃষকদের সকল ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। কিছু জায়গায় নেক ব্লাস্ট রোগ আক্রমন করেছে। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছি। নেক ব্লাস্ট শুধুমাত্র ব্রি ধান-২৮ জাতে আক্রমন করে। কৃষি দপ্তরের পক্ষ হতে আমরা এ জাতের ধান চাষে নিরুসাহিত করে অন্য উচ্চ ফলনশীল ধান চাষের পরামর্শ দেই।

উপজেলার খামার বামুনিয়া এলাকার মতিউর রহমান বুলেট বলেন, আমি এবার ছয় বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। এরমধ্যে আড়াই বিঘা জমির ধান শতকরা ৮০ ভাগ ব্লাস্ট রোগে চিটা হয়ে গেছে। ওই এলাকার শাহিনুর রহমান, হবিবর রহমান, আলম হোসেন জানান, তাদের জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগে ধান চিটা হয়ে গেছে। তারা কৃষি কর্মকর্তাদের এ রোগের কথা জানালে, কৃষি কর্মকর্তারা ধান ক্ষেতে না গিয়ে দুইটি ওষুধ স্প্রে করতে বলে। স্প্রে করার পর নেক ব্লাস্টের আক্রমন আরও বেড়ে যায়।

আন্ধারুর মোড় এলাকার কৃষক মো. নাজিমুদ্দিন জানান, ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় চিন্তায় পড়ে যাই। তাই ধানে সামান্য পাক ধারতেই ধান কেটে নেই। এতে যা পাবো তাই লাভ। ডোমার পৌরসভার বেশিরভাগ কৃষকেই জানান, তারা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে চিনেন না। তিনি কখনো মাঠে এসে কৃষকের সঙ্গে কথা বলেননি বলেও তারা জানিয়েছেন।

বসুনিয়া এলাকার কৃষক মো. মোসলেম উদ্দিন জানান, করোনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে কোন কাজ করতে পারি না। এবারে ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে কিছুটা হাসি ফোটে। তবে নেক ব্লাস্ট রোগে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা যদি তদারকি করে কৃষকদের পরামর্শ দিত, তাহলে হয়তো এ রোগ সেভাবে বিস্তার করতে পারতো না।

উপজেলায় মোট ১৩ হাজার একশত হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে চলতি মৌসুমে।