করতোয়া নদীর বালু হরিলুট

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করতোয়া নদীর বালু হরিলুট

আব্দুল্লাহীল বাকী বাবলু, পীরগঞ্জ (রংপুর) ১:২৮ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

print
করতোয়া নদীর বালু হরিলুট

পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করা সত্ত্বেও করতোয়া নদী থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু লুটে নিচ্ছে।

ইউএনও টিএমএ মমিন বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করে ১৪৪ ধারা জারির কথা স্বীকার করে বলেন, কোথায় থেকে বালু তোলা হচ্ছে, তা জানি না। তবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নদীপাড়ের বেশ কয়েকটি স্থানে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ট্রাক বালু উত্তোলন করে মজুদ করে রাখা হয়েছে। নদীটির জয়ন্তীপুর ঘাটে নির্মাণাধীন জয়ন্তীপুর ব্রিজের নিচ থেকেই প্রায় ৫০ হাজার ট্রাক বালু নদীপাড়েই মজুদ রয়েছে। অপরদিকে বালু ভর্তি ট্রাক চলাচল করায় পাকা ও কাঁচা রাস্তা ভাঙছে, ভাঙ্গছে জমি। বালু তোলায় আসছে বর্ষা মৌসুমে কয়েকটি ঘাট দিয়ে রংপুর-দিনাজপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হয়েছে বলে অসহায় গ্রামবাসী জানিয়েছেন।

জানা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর জেলার পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাটের প্রায় ২৫টি গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। নদীর তলদেশে বিভিন্ন স্থানে বোমা এবং শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনে প্রতিযোগিতা চলছে। এতে নদী পাড়ের জমি, রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অসংখ্য লিখিত অভিযোগ করেন।

নদীপাড়ে কয়েক একর জমির ওপর বালু মজুদের ব্যাপারে ব্রিজটির শ্রমিকরা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ব্রিজের নিচ থেকে আমরাও বালু তুলতে নিষেধ করেছি। কিন্তু না শুনে উল্টো হুমকি দেয়। টুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর ও বিছনা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের বালু নিয়ে দুগ্রুপের মাঝে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর উপজেলা প্রশাসন উল্লেখিত স্থানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বালু উত্তোলন বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু তা না মেনে উপজেলা চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মন্ডলের ভাই মোস্তাফিজার রজমান মানিক এবং একজন ভাইস চেয়ারম্যান বিছনা গ্রামে বালু উত্তোলন করে মজুদ করে রেখেছে।

অপরদিকে নদীটির বড়আলমপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুরিয়ায় মদনখালী ইউনিয়ন আ. লীগের সম্পাদক সেলিম মিয়া ও তার ভাই শামীম মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সালমান সিরাজ রিজু, যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন এবং জামরুল মেম্বারসহ উপজেলার এক শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রায় ৩০ হাজার ট্রাক বালুর মজুদ করে রেখেছে।

বাঁশপুকুরিয়া মন্ডলপাড়ায় উপজেলা যুবলীগের পরিচয়দানকারী গোলাম রব্বানী এবং এনছার মেম্বারের ভাই প্রায় ১০ হাজার ট্রাক বালু মজুদ এবং প্রতিদিন নিয়মিত বিক্রিও করছে। বড়আলমপুর ইউনিয়নের শালপাড়া ঘাটের উত্তরে নদীটি থেকে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান হাফিজার রহমানের সমর্থক জাহিদ, শামীম ও নুরু মিয়াসহ ১৭/১৮ জন বালু তুলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতি মাহিন্দ্র ৬শ টাকায় বিক্রি করছে। রাস্তাঘাট ভাঙন ও জমি রক্ষায় এলাকাবাসী বালু উত্তোলনে বাধা দিলে বালু সন্ত্রাসীরা নানাভাবে হুমকি দেয় বলে জানা গেছে।