বিরামপুরে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়ম

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

বিরামপুরে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়ম

দিনাজপুর প্রতিনিধি ৩:২৭ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২০

print
বিরামপুরে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়ম

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নে ইউপি সদস্য মৃত এক ব্যক্তির নামের কার্ড দিয়ে সরকারের ভিজিডি কর্মসূচির জন্য উপকারভোগী মহিলাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। কার্ডের মালিক মারা গেলেও তার নামে বরাদ্দ কার্ডে কয়েক দফায় চাল তুলে নেওয়া অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বলরামপুর গ্রামের মৃত রুনা লায়লার (ক্রমিক নং-৭১) নামে বরাদ্দকৃত চাল প্রায় ছয় মাস ধরে উত্তোলন করছেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। মৃত রুনা লায়লা ওই গ্রামের আজমল হোসেনের স্ত্রী।

ওই কার্ডধারী মৃত রুনা লায়লার স্বামী আজমল হোসেন জানান, ‘আমার স্ত্রী রুনা লায়লা প্রায় ছয় মাস আগে মারা যান। রুনা লায়লা মৃত্যুর পরে তার নামের কার্ডটি স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান নিয়ে যান। সেই থেকে আমার স্ত্রীর নামে বরাদ্দকৃত কার্ডের চাল কে বা কারা উত্তোলন করে আমার জানা নেই।

এছাড়া এই ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার তার ছেলের নামে (ফিরোজ, ক্রমিক নং-১০৮৮) ও মেয়ের নামে (লিজা পারভিন, ক্রমিক নং-১৯৬) কার্ড বানিয়েও সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল উত্তোলন করে। শুধু চালই নয়, তার মেয়ের নামে (লিজা পারভিন,ক্রমিক নং ২) মাতৃত্বকালীন ভাতাও উত্তোলন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ তার মেয়ের পার্শ্ববর্তী উপজেলা নবাবগঞ্জে বিয়ে হয়েছে এবং তিনি সেখানেই স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করেন।

জানা যায়, সরকারি খাদ্যবান্ধব ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির জন্য খানপুর ইউপিতে দুইটি ডিলার রয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন ডিলার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা ডিলার হিসেবে আমাদের এতো কিছু যাচাই বাছাই করার সুযোগ থাকেনা। কার্ড থাকলে আমরা চাল দিয়ে দেয়। তালিকায় তাদের নাম আছে।

ইউপি সদস্য এবং খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, আমি ওই কার্ড নেইনি । রুনা লায়লা মারা যাবার পর এই গ্রামের একজন গরীব লোক কে দেওয়া হয়েছে এবং সে এই চাল উত্তোলন করে।

ছেলে ও মেয়ের নাম দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি আমার ছেলে ও মেয়ের নাম দিয়েছিলাম তবে এখন আর চাল উত্তোলন করি না।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দিনাজপুর জেলা মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক মোর্শেদ খান জানান, মৃত ব্যাক্তির নামে চাল উত্তোলন একটি অপরাধ। যদি এরকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে মৃত ব্যক্তির নামের কার্ড বাতিল করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।