করোনায় কাঁচাবাজারে মন্দার প্রভাব, বিপাকে কৃষক

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনায় কাঁচাবাজারে মন্দার প্রভাব, বিপাকে কৃষক

নীলফামারী প্রতিনিধি ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

print
করোনায় কাঁচাবাজারে মন্দার প্রভাব, বিপাকে কৃষক

নীলফামারীতে করোনার মন্দার প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। গত শুক্রবার শহরের কাঁচা শাক-সবজীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেগুণ দুই থেকে পাঁচ টাকা, ক্ষীরা পাঁচ টাকা, টমেটো ১৫-২০ টাকা, বিভিন্ন জাতের আলু ১৫-২২ টাকা, মরিচ ২৫-৩০ টাকা, করলা ২৫-৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে। দামে সস্তা হলেও দোকানগুলো ছিল ক্রেতা শূন্য। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

ওই বাজারে বেগুণ বিক্রি করতে এসেছিলেন জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের উত্তর কানিয়ালখাতা গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান। অনেক আশা নিয়ে তিনি এবার আবাদ করেছেন দেড় বিঘা জমিতে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির বিপাকে পড়ে ফসলের দাম না পেয়ে মাথায় হাত পড়েছে তার।

সকালে ওই কৃষক ৫০ কেজি ওজনের পাঁচ বস্তা বেগুণ নিয়ে এসেছিলেন বাজারে। ইচ্ছা ছিল পাইকারের কাছে বিক্রি করে ফিরে যাবেন বাড়িতে। কিন্তু পর্যাপ্ত পাইকার না থাকায় দুপুর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি করেছেন দুই থেকে তিন টাকা দরে। তিনি বলেন, গত বছর দেড় বিঘা জমির বেগুন বিক্রি করে আয় করেছিলাম দেড় লাখ টাকা। এবারের পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব হবে না।

একই অবস্থা ওই গ্রামের কৃষক ছকিমদিন, সামসুল হকসহ শতাধিক কৃষকের। তারা বলেন, শাক-সবজী কাঁচা পণ্য হওয়ায় ফলন আসার সময়েই বিক্রি করতে হয়। এ সময়ে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়ায় আমাদের কপাল পুড়েছে। এখন যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাতে পরিবহন খরচও উঠছে না।

শহরের কাঁচা শাক-সবজীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, ক্ষিরা পাঁচ টাকা, টমেটো ১৫-২০ টাকা, বিভিন্ন জাতের আলু ১৫-২২ টাকা, মরিচ ২৫-৩০ টাকা, করলা ২৫-৩০ টাকা এবং বেগুণ দুই থেকে পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হতে। দামে সস্তা হলেও দোকানগুলো ছিল ক্রেতা শূন্য। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

গ্রামে কাঁচা শাক-সবজী সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বাজিতপাড়া গ্রামের জামিয়ার রহমান। তার ওই আয়ের উপর নির্ভরশীল পরিবারের নয় সদস্য। করোনা পরিস্থিতিতে ক্রেতা না থাকায় থেমে গেছে তার জীবিকার পথ। অন্যান্য দিন ওই বাজারে বেলা ১২টার মধ্যে তার দোকানের শাক-সবজী বিক্রি শেষ হলেও গত শুক্রবার ক্রেতার পথ চেয়ে বসেছিলেন বেলা আড়াইটা পর্যন্ত।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ব্যবসা করে আয় করি তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা। তাতেই চলে আমার পরিবারের খাওয়া খরচ। গত তিন দিন ধরে ক্রেতা না থাকায় আমার আয় হচ্ছে এক থেকে দেড়শ টাকা। ওই টাকায় আমার সংসার চলেনা।

ওই বাজারের বড় ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম জানান, পাইকারী বাজারে প্রতিদিন শাক-সবজীর আমদানী প্রচুর। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি হচ্ছে না। ফলে অনেকে শাক-সবজী বাজারে এনে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। পাইকারা গিরির কাছে কিনে বিক্রি করতে না পারায় বাজারেই রেখে চলে যাচ্ছেন। এমন মন্দাভাবে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

জেলা শহরের বড়বাজারের কাচা শাক-সবজীর আরতদার মোহাম্মদ মাহমুদ আলী বকুল বলেন, বাজারে মৌসুমী কাঁচা সবজীর আমদানী পরিমানমত আছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বাজার প্রায় ক্রেতা শূন্য। এতে উৎপাদনকারী কৃষক ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।