ঘুষ নিয়েছে চেয়ারম্যান, অভিযোগ করায় বিধবাকে মারধর

ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

ঘুষ নিয়েছে চেয়ারম্যান, অভিযোগ করায় বিধবাকে মারধর

আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি ২:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০

print
ঘুষ নিয়েছে চেয়ারম্যান, অভিযোগ করায় বিধবাকে মারধর

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ ঘুষের অভিযোগ দেওয়ায় রোজেয়া বেওয়া নামে এক বিধবাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি ঈদগা মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বিধবা রোজেয়া বেওয়াকে দুর্যোগ সহনীয় প্রকল্পের একটি বাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। যা পেতে মন্ত্রী ও উপজেলায় কয়েকটি টেবিলে টাকা দিতে হবে বলে অজুহাত দিয়ে বিধবার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান।

প্রকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে রোজেয়া বেওয়ার ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী। কাজ শুরুতেই বালু ও রড কিনে নেন। এ ছাড়াও নির্মাণ কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের খাওয়ানোর ব্যবস্থাও বিধবাকে করতে বাধ্য করেন। এত টাকা খরচ করেও ঘরটি নিন্মমানের সামগ্রীতে তৈরী করায় নির্মাণ কাজ শেষ নাতেই ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়ে। যা নিয়ে গত ২১ মার্চ খোলা কাগজ পত্রিকায় ‘আদিতমারীতে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মাণ শেষের আগেই ধস’ খবর প্রকাশিত হলে আদিতমারী ইউএনও মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন গত ২৩ মার্চ সরেজমিনে তদন্ত করেন।

এ ঘটনায় ঘুষ গ্রহণের বিচার ও ঘরটি পুক্তভাবে নির্মাণের দাবি করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন বিধবা রোজেয়া। অভিযোগটি আমলে নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন ইউএনও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল থেকে ফিরলে চেয়ারম্যানের দলবল ওই গ্রামের মাহাবুল আলম দলবল নিয়ে বিধবাকে অতর্কিত ভাবে মারপিট শুরু করেন। তাকে বাঁচাতে এসে মারপিটের শিকার হন বিধবার ভাই জাহেদুল ইসলাম। স্থানীয়রা তাদের দুই ভাইবোনকে উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

বিধবা রোজেয়া বেওয়া বলেন, তদন্ত কমিটির অফিসার চলে যাওয়ার পরপরেই চেয়ারম্যানের সমর্থিত মাহাবুল দলবল নিয়ে এসে কিলঘুসি মারতে থাকে এবং জানতে চায় চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার কারণ ও অভিযোগ তুলে নেওয়ার হুমকী দেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

তবে পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কোন লোকজন রোজেয়া বেওয়াকে মাারপিট করেনি।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. বিশ্বজিৎ কুন্ড বলেন, বিধবা বুকে ও গলায় আঘাত পেয়েছেন। তাদের দুই ভাইবোনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আদিতমারী ইউএনও মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, আহত বিধবার পরিবার মারপিটের বিষয়টি মোবাইলে জানিয়েছেন। থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি তদন্তে কমিটি কাজ করছে।