ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা এখন মরা খাল

ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬

ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা এখন মরা খাল

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ৭:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

print
ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা এখন মরা খাল

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খর স্রোতা শাখা যমুনা নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর তলদেশে পলি মাটি জমে ভরে উঠেছে। এ কারণে বছরের বেশি ভাগ সময় এ নদীতে পানি থাকে না, নদীর কিছু কিছু জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে, নদীর বুক চিরে চলছে চাষাবাদ। অথচ এক সময় এই নদীই ছিল এই অঞ্চরের মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস, এখন সেসব শুধুই স্মৃতি।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই শাখা যমুনা নদীটি, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি নামক স্থানের ইছামতি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে, ফুলবাড়ী উপজেলা হয়ে জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলা দিয়ে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ত্রিমোহনি যমুনা ও আত্রই নদীতে মিলিত হয়েছে। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় রয়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার। নদীটি এক সময় এই অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্যসহ যাতায়াতে একমাত্র মাধ্যম ছিলো। নদী পাড়ের বাসিন্দারা বলেন, নদীতে পানির ধারন ক্ষমতা না থাকায় বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিপাতে বন্যা হয়ে যায়, নদীর পানি ঘর-বাড়িতে প্রবেশ করে প্রতি বছর বন্যার সময় ঘরবাড়ি ভেঙে যায়।

প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, এই নদীটির এক সময় প্রান ছিল, সারা বছরে এ নদীতে পানি ছিল এই পানি দিয়ে ঘর-গৃস্থারীর কাজ ও জমির সেচ কাজ চলতো। এখন নদীতে পানি না থাকায় সেচপাম্প বসিয়ে ইরি বোরো জমিতে পানি সেচ দিতে হচ্ছে, এতে পরিবেশ বিপর্য়য়ের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা পল্লী চিকিৎসক ওয়াজেদুর রহমান বাবলু বলেন, আমাদের প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্য সবই নির্ভর করে নদীর উপর, তাই নদীকে বাঁচাতে হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাজনুন্নাহার মায়া বলেন, সাধু পানিতে ২৬৫ প্রজাতির মাছ থাকে। এর মধ্যে এখন সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০১ প্রকার মাছের বংশ রয়েছে, এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ প্রকার দেশী প্রজাতির মাছ আর দেখা যায় না।

বাকি মাছগুলো চাষের মাধ্যমে বংশ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফুলবাড়ী ইউএনও সালাম চৌধুরী বলেন, নদীর পানির বহমান রক্ষা করার জন্য সরকার কাজ শুরু করে করেছে। নদী দখল মুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে।