প্রমত্তা তিস্তার চরে চাষাবাদ

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

প্রমত্তা তিস্তার চরে চাষাবাদ

মোস্তাক আহমেদ, কাউনিয়া (রংপুর) ২:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০

print
প্রমত্তা তিস্তার চরে চাষাবাদ

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সিকিম হিমালয়ের ৭২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চিতাম্বু হ্রদ থেকে তিস্তা নদীর সৃষ্টি। ভারত থেকে বয়ে আসা তিস্তা নদী নিলফামারী জেলার খড়িবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এক কালের খরস্রোতা তিস্তা নদী রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাজারহাট উপজেলায় চলে গেছে।

সেই তিস্তা এখন পানি শুন্য মরা গাং এ পরিণত হয়েছে। নদী এখন হেঁটে পারাপার হওয়া যায়। এ বছর পানি প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস  পেয়ে ডালিয়া পয়েন্ট থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত ৭৫ কিমি. নদীর বুক জুড়ে ধু ধু বালু চর পড়েছে। তিস্তা নদীর উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাই গুড়ির গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে পানি মহানন্দা নদীতে নিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে তিস্তা নদী বর্তমানে কংকালসার হয়ে মরা গাং এ পরিণত হয়েছে।

ভারত তিস্তা থেকে পানি প্রত্যাহার করায় তিস্তা সেচ বাঁধ প্রকল্প প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নদীতে পানি না থাকায় জেলায় মৎস্য ঘাটতি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির মধ্যে পড়েছে। মৎস্যজীবীদের কর্মহীনতা, কৃষিতে সেচ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। নদীর বুক জুড়ে এখন ধু ধু বালু চর আর ফসলের মাঠ। জেগে ওঠা চরে ধান, গম, আলু,  পেঁয়াজ, মরিচ, কুমড়া ও তামাকসহ নানা ধরনের রবি শস্যের চাষ হচ্ছে।

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ড্রেজিং না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে বর্তমানে খর¯্রােতা তিস্তা নদী এখন মরা খালে পরিণত হওয়ার পর্যায়ে। নৌ চলাচলে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। নদীতে পানি না থাকায় চীলমারী ও বুড়িমারী বন্দরের সঙ্গে নৌ- যোগাযোগ, মালামাল পরিবহন বন্ধ রয়েছে প্রায় এক যুগ থেকে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ডালিয়া পয়েন্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে চাষীরা তিস্তার ডান ও বাম তীর ইনলেক্ট কালচারের মাধ্যেমে বিদ্যুত ও ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে সেচ কাজে পানি ব্যবহার করে এবং শুষ্ক  মৌসুমে তিস্তার পানি সরাবরাহ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তার পানি প্রবাহ অস্বাভিক হ্রাস  পেয়েছে। এতে করে চলতি মৌসুমে চাষিরা ইরি বোরো চাষ নিয়ে বেকায়দায় হয়ে পড়েছেন। নদীর পানির হ্রাস ও উজানের পাহাড়ী ঢলে বালু পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীকে ঘিরে শত শত জেলে পরিবার আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে বেকার হয়ে পড়েছে।

নদী ড্রেজিং না করায় নদীর গতি পথ পরিবর্তন হয়ে অসংখ্য বাঁক ও চরের সৃষ্টির ফলে বর্ষাকালে নদীর পানির ধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং উভয় তীরের ৩৫ কিমি. এলাকা জুড়ে গ্রামগুলো নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।