কৃষি জমিতে ইটভাটা

ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬

কৃষি জমিতে ইটভাটা

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ৩:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

print
কৃষি জমিতে ইটভাটা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে তিনটি ইটভাটা। পরিবেশ অধিদফতরে নামমাত্র আবেদন করে ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটার মালিকরা আবাদী জমি ও জনবসতি এলাকা জুড়ে রাত-দিন ইট পোড়ানো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মাত্র আধা কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তিনটি ইটভাটা গড়ে উঠায় ইটভাটার বিষাক্ত ছাঁই, কালো ধোঁয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে কৃষকদের শতশত একর বোরো আবাদ, রবিশস্য, সুপারি, নারিকেল, আম-জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে ইটভাটার পাশ্ববর্তী এলাকার কোমলমতি শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সীমান্ত ঘেষা কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারী গ্রামের বিস্তৃর্ণ কৃষি জমিতে মেসার্স ডব্লউিএএইস ব্রিকস্ ফিল্ড, এ বি বিকস্ ও মেসার্স এম এস এইচ ব্রিকস্ নামের তিনটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এ সকল ইটভাটার একটিরও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নাই। পরিবেশ অধিদফতরে নামমাত্র আবেদন করে, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চলছে ইট পোড়ানোর কাজ।

কৃষক রফিকুল ইসলাম, হজরত আলী ও মফিদুল জানান, ভাটার মালিকরা জমি ভাড়া নিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করছে। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে বোরো এবং আমন আবাদের ফলন বিঘা প্রতি ৫-৬ মণ কমে এসেছে। ভাটার কালো ধোঁয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে সুপারি বাগানের। ধোঁয়ার বিষক্রিয়ায় কয়েক বছর থেকে এই এলাকায় সুপারির ধরতি নেই বললেই চলে। তাছাড়া আম, কাঁঠাল, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলের ধরতিও কমে গেছে। ভাটার মালিকরা ইট পরিবহনের জন্য উঁচু রাস্তা তৈরি ও সেতুর মুখ বন্ধ করায় বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর এই এলাকার শতশত বিঘা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে।

মেসার্স ডব্লিউ এএইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক মোশারফ হোসেন জানান, পরিবেশ অধিদফতরের পুরাতন সনদ আছে, নতুন সনদের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ বি ব্রিকসের ম্যানেজার শাহিন ২০১৬ সালে মেয়াদ উত্তীর্র্ণ সনদ সাংবাদিকদের দেখিয়ে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। মোবাইল ফোনে এ বি ব্রিকসে মালিক খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কাগজ দেখাতে বাধ্য নন বলে জানান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশিদ জানান, জমির উপরিভাগের মাটি দিয়ে ইট তৈরি করার কারণে ওই এলাকার জমির উর্বরা শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে। এটা কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি।

পরিবেশ অধিদফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, নথিপত্র দেখে যাদের কাগজপত্র নাই তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, যাদের কাগজপত্র নাই তারা অবৈধ, দ্রুত এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।