বিলীনের পথে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

বিলীনের পথে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি ১২:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

print
বিলীনের পথে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন বিলীনের পথে। দিনদিন বাঁধের ওপর অবৈধ জনবসতি এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। যেন এসব দেখার কেউ নেই। ফলে বন্যার হুমকির মধ্যে রয়েছে সাঘাটা উপজেলা জনপদ।

বাঁধে এসব অবৈধ জনবসতি ও স্থাপনা সরিয়ে ফেলার জন্য কোন তাগিদ এবং বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের ব্যাপারে সরকারি বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন উদ্যোগ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটি এখন বিলীনের পথে। ফলে মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছে বাঁধের পশ্চিমাংশে অবস্থিত সাঘাটার বির্স্তীর্ণ জনপদ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বসন্তের পাড়া গ্রাম হতে শুরু করে সাঘাটা ইউনিয়নের বাঁশহাটা পর্যন্ত বাঁধের কোথাও দু’পাশের ঢালু খাড়া করে কেটে সমতল করেছে। কোথাও আবার বাঁধের ওপর, যার যেমন মন চায় নিজেদের ইচ্ছামত ঘরবাড়ি উঠিয়ে লোকজন বসবাস করছে। এদের মধ্যে দুই-চারজনের বাড়ি- ঘর করার মত জমি না থাকলেও সিংহভাগ পরিবারের রয়েছে জায়গা জমি। তারা এক সময় নদী ভাঙনে গৃহহারা হয়ে এই বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

পরবর্তীতে তাদের ভেঙে যাওয়া জমিগুলো চর জেগে উঠলেও তারা বাঁধ ছেড়ে সেই চরে আর ফিরে যায়নি। অনেকের মূল ভূখণ্ডেই জায়গা জমি থাকলেও সেখানে বাড়ি-ঘর না করে বাঁধেই বসবাস করছেন। বাঁধে বসবাসকারী লোকজনকে সরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কেউ কিছু না বলার সুবাদে নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী বাঁধ কেটে বাড়ি-ঘর তুলে বসবাস করছে। বাঁধে বসবাসকারী আইয়ুব হোসেন, ফুল মিয়া, সাহেব মিয়া জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা এই বাঁধে বসবাস করছেন। তাদের বাঁধ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য কখনও কেউ বলেননি।

সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট জানান, এইসব লোকজন দীর্ঘদিন ধরে বাঁধে বসবাস করছেন। লোকজনের বসবাসের কারণে বাঁধটি হুমকির মধ্যে পড়েছে জরুরিভাবে এ বাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাঁধে বসবাসকারী এসব লোকজনের মধ্যে কোন কোন পরিবারের জায়গা জমি নেই। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, ইতিমধ্যে বাঁধটি পুন:সংস্কার করার জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগে অর্থ ছাড়ের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ পেলে পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে।