নিপুণ হাতে বাঁশের কাজ

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

নিপুণ হাতে বাঁশের কাজ

জে. ইতি, হরিপুর, (ঠাকুরগাঁও) ১০:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

print
নিপুণ হাতে বাঁশের কাজ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বাঁশের শিল্পীরা জীবিকা নির্বাহ করছেন বাঁশের পণ্যসামগ্রী তৈরি করে। বাঁশমালি সম্প্রদায়ের এই বাঁশ শিল্পীরা বংশপরম্পরায় এ কাজ করে চলেছেন। এই সম্প্রদায়ের শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেকেই বাঁশের পণ্য তৈরির কাজ করেন নিপুণ হাতে, নিখুঁতভাবে।

হরিপুর উপজেলার কাঁঠালডাঙ্গী হারিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বাঁশের পণ্য তৈরির কাজ করছেন। তৈরি করছেন চাটাই, কুলা, পাখা, ডালি, খাঁচা, খেলনা, ভাঁড় ও নানান পণ্যসামগ্রী। এগুলো বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে বাঁশমালিদের সংসার। একই চিত্র দেখা যায় উপজেলার পতনডোবা, খোলড়া গ্রামে। তারা বাঁশ সংগ্রহ করেন এবং দিনমান কাজ করেন।

বাঁশমালি বতরিস বলেন, সকালে বাঁশ কেটে ফালি করে চটি ও তেওয়াল তুলে রোদে শুকানোর পর স্ত্রীকে নিয়ে সারাদিন ডালি, খাঁচি ও কুলা তৈরি করি। স্কুল শেষে ছেলে-মেয়েরাও আমাদের কাজে সহযোগিতা করে।

ঝেলঝেলি রানী বলেন, আগে সহজে বাঁশ সংগ্রহ করা যেত। এখন বাঁশের সংকট হওয়ায় দাম বেড়েছে। তাই লাভ খুব কম হচ্ছে। ধান ও গম মাড়াইয়ের মৌসুমে বাঁশের তৈরি কুলা, ডালি- এসব পণ্যের চাহিদা থাকে বলে জানান রবি ও মঙ্গলু।

তারা বলেন, পরিবারের সবাই মিলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাঁশের জিনিস তৈরি করি। আর হাটের দিন এসব পণ্য বিক্রি করি। সরকারিভাবে যদি কোনো সাহায্য করা হয় বা সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয় তাহলে অনেক পণ্য তৈরি ও বিক্রি করে আমরা বাঁশমালিরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারব বলে আশা করি। পণ্য তৈরিতে যদি খরচ হয় ৫০০ টাকা, এতে লাভ হয় মাত্র ১০০ টাকা। পুঁজির অভাবে বেশি পণ্য তৈরি করা সম্ভব হয় না। কষ্টেসৃষ্টে যা করা হয় তা দিয়ে কোনোমতে সংসারের খরচ চলে।

বিশু, নরেশ, মিঠু ও কয়েকজন বাঁশমালি অভিযোগ করে বলেন, বাঁশ কারিগরদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পণ্য বাজারজাতকরণ। বর্তমানে তাদের তৈরি পণ্যের স্থানীয় পাইকার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের কাছে এই বাঁশের শিল্পীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে বাঁশ শিল্পীরা বাঁশ সংগ্রহ করে পণ্য তৈরি করেন। ফলে কম দামে পাইকাররা তাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করে বিভিন্ন হাটে বাজারে বিক্রি করেন।

যুগের পর যুগ এই বাঁশ শিল্পীদের ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও তাদের এই শ্রম ও শৈল্পিক কাজের পুরো মুনাফাটা লুটে নিয়েছে মধ্যস্বত্বভোগী পাইকার গোষ্ঠী।